Breaking News

জয়কে হত্যার চেষ্টা : আদালতে অনুপস্থিত রেহমানসহ চারজনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা ||BD420


প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে প্রায় তিন বছর আগে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার ষড়যন্ত্রের মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে সম্পাদক শফিক রেহমানসহ চারজনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। ঢাকা মহানগর হাকিম সারাফুজ্জামান আনসারী এই আদেশ দেওয়ার পর এসব আসামিকে গ্রেপ্তার করা গেল কি না, তা জানাতে আগামী ৫ এপ্রিল প্রতিবেদন দিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযোগপত্রে তিনজনকে পলাতক দেখানো হয়েছিল। মঙ্গলবার শফিক রেহমানের নামও পলাতকের তালিকায় যোগ করে তাকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি হয়। আদালত পুলিশের কর্মকর্তা এসআ্ই জালাল উদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “জামিনে থাকা আসামি আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান আদালতে হাজির হলেও পাওয়া যায়নি শফিক রেহমানকে।
“শফিক রেহমান তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল পর্যন্ত জামিনে ছিলেন। কিন্তু যেহেতু আজ তদন্ত প্রতিবেদন গৃহীত হল, কিন্তু শফিক রেহমান আদালতে হাজির হয়ে নতুন করে জামিন চাননি, সে কারণে তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।”
নির্ধারিত ২০টি তারিখ পার হওয়ার পর গত ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ডিবি পুলিশ আলোচিত এই মামলার অভিযোগপত্র দেয়।
তাতে মাহমুদুর রহমান ও শফিক রেহমান বাদে অন্য তিন আসামি জাসাসের সহসভাপতি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মোহাম্মদ উল্লাহ মামুন, তার ছেলে রিজভী আহাম্মেদ ওরফে সিজার এবং যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ভূঁইয়াকে পলাতক দেখানো হয়েছিল।
এসআই জালাল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা জয়কে অপহরণ করে হত্যাচেষ্টা ষড়যন্ত্রের নির্দেশদাতা হিসেবে শফিক রেহমান ও মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। আর আসামি মোহাম্মদ উল্লাহর বিরুদ্ধে পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
সিজারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের কাছ থেকে জয়ের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে অন্য আসামিদের কাছে সেই তথ্য সরবরাহ করেন। অর্থায়ন ও পরামর্শদাতার অভিযোগ আনা হয়েছে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে।
জাসাসের কেন্দ্রীয় নেতা মামুন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সহ-সভাপতি ছিলেন। পরিবার নিয়ে কানেটিকাটের ফেয়ারফিল্ড কাউন্টিতে বসবাস করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকেন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায়। তার ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সংরক্ষিত গোপন তথ্য পেতে এফবিআইএর এক কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অপরাধে ২০১৫ সালের ৪ মার্চ মামুনের ছেলে রিজভীকে সাড়ে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয় নিউ ইয়র্কের একটি আদালত। সিজার আদালতের রায়ে কারাগারে যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়।
এরপর জয় ফেইসবুকে এক পোস্টে লেখেন, “আমাকে যখন কেউ হত্যার চেষ্টা করছে, সেটিও তখন আমি খুবই ব্যক্তিগত ব্যাপার হিসেবে নিচ্ছি। যারা এর জন্য দায়ী, তারা বিএনপির যতো উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বই হোক না কেন, আমি তাদের হদিস বের করে বিচারের মুখোমুখি করব।”
যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের নথিতে দেখা যায়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ছেলের ক্ষতি করার জন্য তার ব্যক্তিগত তথ্য পেতে সিজার এফবিআইয়ের এক এজেন্টকে ঘুষ দিয়েছিলেন।
ঘুষ দিয়ে তথ্য পাওয়ার পর সিজার তা বাংলাদেশি এক সাংবাদিককে সরবরাহ করেছিলেন এবং বিনিময়ে প্রায় ৩০ হাজার ডলার পেয়েছিলেন বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়।
ওই রায়ের পর জয়কে অপহরণের চক্রান্তের অভিযোগে ২০১৫ সালের ৩ অগাস্ট গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ফজলুর রহমান ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৩০৭ ও ১২০ (বি) ধারায় ঢাকার পল্টন থানায় এই মামলা দায়ের করেন।
সেখানে বলা হয়, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের আগে মামুনসহ বিএনপি ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটভুক্ত অন্যান্য দলের উচ্চপর্যায়ের নেতারা রাজধানীর পল্টনের জাসাস কার্যালয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরে, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার একত্রিত হয়ে সজীব ওয়াজেদ জয়কে আমেরিকায় অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিলেন।
এই মামলায় ২০১৬ সালের ১৬ এপ্রিল শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাঁচ মাস পর তিনি জামিনে ছাড়া পান।
ইস্কাটনে তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে সে সময গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, জয় সংক্রান্ত ‘কিছু তথ্য ও গোপনীয় নথিপত্র’ সেখানে পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে শফিক রেহমানের স্ত্রী তালেয়া রেহমান সে সময় দাবি করেছিলেন, ‘অনুসন্ধানী সাংবাদিক’ হিসেবে নিবন্ধ লেখার জন্যই তার স্বামী ওই তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন।

No comments

'; (function() { var dsq = document.createElement('script'); dsq.type = 'text/javascript'; dsq.async = true; dsq.src = '//' + disqus_shortname + '.disqus.com/embed.js'; (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(dsq); })();