Breaking News

একটা প্যান্ট আর হাতা কাটা গেঞ্জি গায়ে ঠোঁটে সিগারেট || আবদুল কাদের জিলানী


একটা প্যান্ট আর হাতা কাটা গেঞ্জি গায়ে ঠোঁটে সিগারেট ঠেকালেই কি নারী পুরুষ মানুষ হতে পারে ? নারী এখন কি চায় ? এই প্রশ্নটা একদম অহেতুক বলেই আমার কাছে মনে হয় । এই একুশ শতকে বাঙালি নারী এখন পার্টলি চিন্তা করছে । সবাই কেবল যার যার ব্যক্তিগত জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে । কেউ হিজাব নামক বাহনে, আবার কেউ কামিজ নামক বাহনে ,আবার কেউ বা বুকের বসন ছাড়া গেঞ্জি নামক বাহনে উর্ধ্বলোকে ছুটছে ! শরীরের কাপড়টা যেন উট তাই বলা যায় উদ্ভট উটের পিঠে চলছে নারী । সমগ্র নারী জাতি নিয়ে কেবল বেগম রোকেয়াই ভেবেছিল । বাঙালি নারীর একমাত্র নক্ষত্র বেগম রোকেয়া । এর পরে অনেকেই নারী আন্দলনের নামে যা কিছু করেছে তা সবই বিদেশি এনজিও এর ভেল্কিবাজি । এই এনজিও আমাদের লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করছে । কিন্তু আমাদের চর্ম চোখে এসব দেখা যায় না ।
প্রাগৈতিহাসিক যুগে মানুষের পোষাক ছিল না, তখন বড় বড় লোম শরীরের উপর আলাদা একটা আবরণে লজ্জা স্থান ঢেকে দিতো । কিন্তু সভ্যতা আমাদের হাতে পোষাক তুলে যদিও শারীরিক ভাবে সভ্য করে তুলেছে কিন্তু মানসিক ভাবে সভ্য হতে পারিনি । ইউরোপে নারী সেক্স কে জীবনের একটা অংশ মনে করে । আমেরিকার অবস্থাও তাই কিন্তু এশিয়ার সংস্কৃতি ঠিক সেভাবে সেক্সকে গ্রহণ করতে পারেনি । কোথাও জিওগ্রাফিক্যালী আবার কোথাও ধর্মীয় আবার কোথাও উগ্র সংস্কৃতিক মতাদর্শ অনুযায়ী সেক্সকে ব্যবহার করে থাকে । আমরা মানসিক ভাবে চুরির প্রবৃত্তি নিয়ে শকুনের মতো মরা মাংসের জন্য ওত পেতে থাকি । একজন নারী টেলিভিশনে যেভাবে বিদেশী সংস্কৃতি দেখে ঠিক সেই বিষয়টি অনুকরণ করে পুলকিত হয় । কখনো যৌন পুলক কখনো পুরুষকে পুলকিত করার জন্য রঙের ঘোড়া সাজে । রুশোর কথাটি প্রতিধানযোগ্য যে , নারী তাঁর শরীরের গোপন অঙ্গ আংশিক বের করে পুরুষকে মানসিক ভাবে উত্তেজিত করে তোলে । আমি নারী নগ্ন বসনে নতুন ইতিহাসের পক্ষেও নই বিপক্ষেও নই । তেমনি আমি নারীর তামাক খাওয়ার কোন ভাবেই বিরুদ্ধ নই । এখন অধিকাংশ বারে নারী পুরুষ এক সঙ্গে মদ গাজা ইয়াবা অবাধে সেবন করছে। আর সেক্স সে তো পার্ট অব লাইফ । সেদিন এক নারীকে বললাম স্মোকিংটা একটু দূরে গিয়ে করলে হয় না।ঠোট থেকে ধোয়া ছেড়ে উল্টো দিকে হেঁটে চলে গেলো । নারীর এই আত্মঘাতী মদ গাজা ইয়াবা সেবনে আমি ভীত সন্ত্রস্ত । কারণ একটা কথা সবসময় ভাবায় নারী এখন সিগারেট ফুকায় যখন সে সন্তান সম্ভবা হবে তখন তাঁর পেটের সন্তান আগুনের ধোয়া খেয়ে খেয়ে এই পৃথিবী নামক গ্রহে আসবে । দীর্ঘ নয় মাস জার্নি শেষে নারীর পেট থেকে একটি মাদক সন্তান বের হবে । এই সন্তান কি সুস্থ শরীরে স্বাভাবিক মন মানসিকতা নিয়ে বেড়ে উঠতে পারবে ? যখন ভাবি তখন কষ্টে চোখের কোনে জল জমে যায় ।
ঠিক এজন্যই জেন্ডার পরিবর্তন করলেই পুরুষ আচরণ শরীরে ভর করে না । আগে যা ছিল তাই নারীর নয় গুন পুরুষের ছয় গুন সেক্স নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে । মানসিক সভ্যতা ভেঙ্গে পড়লেই সমাজে যৌন আর সেক্সচ্যুয়াল সভ্যতা মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে ।কেবল অপসাংষ্কৃকিক মাস্তানিতেই অবাধ যৌন সমাজের জন্ম হয় । যে মাস্তান গুলো সারাক্ষণ যৌন আর অবাধ সুড়সুড়ি দিয়ে নতুন নতুন সেক্সুয়াল থিওরি তৈরি করে তাদের জেন্ডার পরিবর্তন করে মাঠে ছেড়ে দিয়ে দেখুন । তখন আর বল নয় জীবন চলে যাবে তামাশা করে করে । বাঙালি নারী যৌনাঙ্গকে তাঁর শরীরের সবচে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ মনে করে যার দরুন মানসিক শক্তি দিয়ে নতুন চিন্তা ভাবনা সে হয়ে ওঠে না । কেউ শখের বশে যৌন কর্মী কেউ তাঁর প্রেমিকের কাছে ধরা খেয়ে জিদ করে যৌন পেশা গ্রহণ করে । আবার কেউ বা বাধ্য হয়ে এই পেশা গ্রহণ করে । আমি নারীর তামাক খাওয়া অবাধে যৌন শো ডাউনের জন্য তাঁর পুরুষ সহযোগিকে দোষী না করে পারছি না । সেখ সাদীর সেই গল্পটি মনে পড়ে গেলো গোলাপ বাগানের এক টুকরো মাটিকে প্রশ্ন করেছিল তোমার শরীরে এতো সুগন্ধি কেন ;কোথায় পেলে এই সৌরভ? তখন মাটি বললো আমি গোলাপ বাগানে কিছু দিন গোলাপের সংস্পর্শে ছিলাম। যেমন পুরুষ সঙ্গী তেমন তাঁর নারী সঙ্গী এটাই স্বাভাবিক । তাই অসৎ সঙ্গে কিভাবে সৎ সঙ্গের বাস !
আমার মাথায় একটা বিষয় কাজ করে না নারী কেন পুরুষ হতে যাবে ! কি আছে এই পুরুষ নামক মানুষের আচরনে পোষাকে ? নারী তখনই সমাজের সবচেয়ে নিকৃষ্ট পেশাজীবী হয়ে ওঠে তখন নিজের শরীরকে পন্য মনে করে ।একটা গল্প বলি ছোট বেলায় আমাদের গ্রামের নশুকে দেখতাম পাখি ধরতে । যখনই পাখি শিকারে যেতো তখনই দেখতাম হাতের খাঁচায় দু চারটি শালিক ঘুঘু আর ডাহুক পাখি । তখন বুঝিনি কিন্তু এখন নারীর পন্য বৃত্তি দেখে নশুর পাখি শিকারের কথা মনে পড়ে গেলো । সন্ধ্যার সময় যখন পাখি শিকার করে ফিরতো তখন অনেক গুলো পাখি নিয়ে আসতো । বিষয়টি ঠিক এমন পোষ মানা নারী ডাহুকটি বনের মধ্যে রেখে দিতো । কিছুক্ষণ পর কক কক করে যখন ডাকতো তখন অন্য পুরুষ ডাহুক যৌন ক্ষুধায় ছুটে এসে নারী ডাহুকের ফাদে আটকা পড়তো । এখন রাস্তার মোড়ে মোড়ে গুলশানের নামীদামি হোটেল গুলোর বিজ্ঞাপন প্রচারের উদ্দেশ্যে পিঠ খোলা পেট খোলা ডাহুক বসিয়ে পুরুষকে আকৃষ্ট করছে । রাস্তায় লাইন ধরে যায় কেবল জানার জন্য যে, এই হোটেলে কি কি সার্ভিস পাওয়া যায়! এই সংস্কৃতি আমাদের ভয়াবহ দিনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। নারী সম্মানিত তাঁর কর্মসংস্থান রাস্তার মোড়ে মোড়ে তাও আবার নগ্ন বসনে !নারী কর্মী সাহসী যোদ্ধা কিন্তু পন্য হিসেবে কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছি না ।
কখনো শুনেছেন পুরুষকে নারীর মতো আচরণ করতে ! তবে হ্যাঁ লাখে যদিও দুই একজন এই আচরণ করে তাদেরকে অন্য পুরুষ কুল হাফ লেডিস ,,,, বলেই সম্বোধন করে । আমি বার বার বলছি মানসিক অবস্থার কথা। পুরুষ এই দিক দিয়ে নারীর থেকে অনেক পথ এগিয়ে কিন্তু নারী কেবলই পিছনের দিকে ছুটছে । বাঙালি নারী আগে ডোমা পরতো । ডোমা দুই খণ্ড এক খণ্ড হাঁটু থেকে নাভি পর্যন্ত অন্য খণ্ড পেট বুক ঢেকে রাখতো । নারীর মানসিক উন্নতির খুব দরকার । অগ্রগামী পথ যদি মাঝ পথে থেমে গিয়ে পিছনের দিকে সেই ডোমা বর্বরতার দিকে ছোটে তাহলে বাঙালি নারীকে ভয়াবহ খেসারত দিতে হবে। কোন পুরুষ যেমন নারীর মানসিকতা এবং শারীরিক অবয়ব ধারণ করে সন্তুষ্ট হতে পারে না ঠিক তেমনি নারীকেও এই রূপ মানসিকতা ধারণ করতে হবে । আচার আচরণে নারী পুরুষের পার্থক্য কাম্য কিন্তু কোন ভাবেই মানসিক বৈষম্য নয় ।নারী তার নারীত্ব গ্রহণ করবে । তাই নারীকে ভাবতে হবে তাঁকে কোন ভাবেই নতুন আকর্ষণীয় পণ্যের প্রাণী হয়ে সমাজের বিষ ফোঁড়া হয়ে ওঠা যাবে না ।

No comments

'; (function() { var dsq = document.createElement('script'); dsq.type = 'text/javascript'; dsq.async = true; dsq.src = '//' + disqus_shortname + '.disqus.com/embed.js'; (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(dsq); })();