Breaking News

তারেক রহমানের পাসপোর্ট নিয়ে বিতর্ক খুব বেশি গুরুত্ববহ বলে মনে করি না || Abdullah Harun Jewel || RIGHTBD

তারেক রহমানের পাসপোর্ট নিয়ে বিতর্ক খুব বেশি গুরুত্ববহ বলে মনে করি না। বৃটিশ নাগরিকত্বের সাথে বাংলাদেশের পাসপোর্ট তেমন বিবেচ্য নয়, বিবেচ্য বাংলাদেশের নাগরিকত্ব।
তারেককে ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন এন্ড ভিসা অথরিটি UKVI কে নিজের অবস্থান তুলে ধরতে হয়েছিল যার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০১৮ সালে। বৃটেনে বসবাসের জন্য নির্দিষ্ট ক্যাটাগরি বেছে নিয়ে স্যাটেলমেন্ট করতে হবে।
যুক্তরাজ্যে ছয়টি ক্যাটাগরিতে বসবাসের সুযোগ রয়েছে যার দুটি তারেক রহমানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। একটি ক্যাটাগরি হচ্ছে প্রোটেক্টেড বা স্টেটলেস ক‍্যাটাগরি এবং দ্বিতীয় ক্যাটাগরি ডুয়েল সিটিজেন। কিন্তু এক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য সরকারের কাছ থেকে আইনগত সহযোগিতা পাওয়ার ক্ষেত্র সীমিত হয়ে থাকে।
বৃটেনে বসবাস করে কেউ যদি যুক্তরাজ্য সরকারের কূটনৈতিক সহযোগিতা ও সুরক্ষা চায় তাহলে তাকে প্রোটেক্টেড ক‍্যাটাগরি বেছে নিতে হবে। ডুয়েল সিটিজেনরা বৃটিশ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরণের আইনগত বা কূটনৈতিক সহায়তা পাওয়ার অধিকার রাখেন না। যেমন: মূল দেশের আদালত যদি সংশ্লিষ্টের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চায় তাহলে বৃটিশ সরকার নিরপেক্ষ থাকবে। বাংলাদেশ চাইলে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। তবে বন্দি বিনিময়ের ক্ষেত্রে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ফাঁসি দেয়া যাবে না এই মর্মে যুক্তরাজ্য সরকারকে নিশ্চয়তা দিতে হয়।
এককভাবে বৃটিশ নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে বৃটেনের নাগরিক হিসেবে, বিশেষত প্রোটেক্টেড সিটিজেন হিসেবে যুক্তরাজ্য সরকারের পূর্ণ আইনগত ও কূটনৈতিক সহায়তা ভোগ করবে। বাংলাদেশ সরকার চাইলেই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে তা কার্যকর করতে পারবে না। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারকে যুক্তরাজ্যের আদালতে আইনজীবী নিয়োগ করে বৃটিশ সরকারের সাথে মামলা চালাতে হবে। অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো দেশের সরকারের পক্ষে মামলা পরিচালনা সম্ভব হয় না। এর অন্যতম উদাহরণ ভারতে গুলশান কুমার হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত সঙ্গীত পরিচালক নাদিম সাইফি। ভারত সরকার অনেক চেষ্টা করেও তাকে আনতে পারে নি।
আমরা একটি উপসংহারে আসতে পারি যে, তারেক রহমানকে যুক্তরাজ্যে বসবাস করতে হলে যেকোনো একটি পথ বেছে নিতেই হবে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সেটি হচ্ছে প্রোটেক্টেড ক্যাটাগরি। বর্তমানে সে বসবাসও করছে প্রোটেকটেড এলাকাতে। কিন্তু এ ক্যাটাগরিতে যোগ্য হতে হলে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করতেই হবে। ডুয়েল সিটিজেনশিপ গ্রহণের সুযোগ থাকলেও এই ঝুঁকি কখনোই তারেক রহমান নিবেন না।

No comments