Breaking News

জাহেদ কোচিং সেন্টারের সাধারণ শিক্ষক জাহেদ থেকে অাজকের জাহেদ খাঁনের উত্থান সমাজে অাঙুল ফুলে কলাগাছ | BD420

বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ জাহেদকে চিনেন ?
 অাজ থেকে ১৫ বছর অাগে চিনতেন ? জাহেদ কোচিং সেন্টারের সাধারণ শিক্ষক জাহেদ থেকে অাজকের জাহেদ খাঁনের উত্থান সমাজে অাঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়াকেও হার মানায় ! দুধূর্ষ শিবির ক্যাডার হতে বর্তমান দিনের নিরেট লীগার জাহেদের রক্ত চোষার কাহিনীর ব্যপ্তি কতটুকু তা কি জানেন ?
অাল্লাহ সবাইকে তার কৃতকর্মের শাস্তি দুনিয়াতে অনেকাংশে দিয়ে দেন। হাজারো মা-বাবার চোখের পানি লানত অভিশাপ বৃথা হয় না। যেহেতু জাহেদকে অামি চিনি তাই অামার মনে হয়েছে তার পাপের কোটায় অার জায়গা নেই তাই মহানগর ছাত্রলীগকে উসিলা হিসেবে অাল্লাহ পাঠিয়েছেন।
জাহেদ খাঁন শুধু এ বছর নয় প্রত্যেকটা বছর নানাভাবে শিক্ষার্থী ও অভিবাবকদের মাত্রাতিরিক্ত হয়রানী করে এমনকি শিক্ষার্থী বেঁচাকেনার মত নিকৃষ্ট ব্যাবসা করতেও সে দ্বিধাবোধ করে নাহ। অবাক হচ্ছেন তো ! শিক্ষার্থী কেমনে বেঁচাকেনা করে ? শুনেন- ধরুন, অাপনি অাপনার বোনকে ভর্তি করালেন বিজ্ঞান কলেজে। ইন্টারের দু বছরে কমপক্ষে এক থেকে দেড়লক্ষ টাকা খরচ কলেজটিতে। কিন্তু যখন ইন্টারের বোর্ড পরীক্ষা অাসবে তখন অাপনার মাথায় হাত ! এটা কি ? রেজিস্ট্রেশন পেপারে দেখবেন তার কলেজের নামের জায়গায় বিজ্ঞান কলেজ নায়। সেটির বদলে এমন একটা কলেজের নাম দেয়া হয়েছে যেটির অস্তিত্ব শুধু সাইনবোর্ডে অাছে ! তার মানে কি হয়েছে জানেন ? শিক্ষা ব্যবসায়ী জাহেদ তার শিক্ষার্থীদের মাথাগণা বিক্রি করে দিয়েছে ঔই অখ্যাত কলেজের কাছে। বিনিময়ে সে সেই কলেজ থেকে প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য নেয় ৫০ হাজারের উপর টাকা। প্রতিবছর জাহেদ এরকম দেড়শ দুশো স্টুডেন্ট বিক্রি করে এই শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন অঙ্কুরে বিনষ্ট করে দেয়। পরীক্ষার অাগের দিন যখন গার্ডিয়ানরা তার এই প্রতারণা জানতে পারেন তখন তার কাছে গেলে সে গার্ডিয়ানদের হেনস্তা করত, সে বুঝাতো তার কালো হাত অনেক লম্বা। এতো গেল
স্টুডেন্ট বিকিকিনির ইতিহাস। এবার অাসুন জেনে নিই বিজ্ঞান কলেজে কি কি কান্ড কীর্তন হয়। এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর পুরো চট্টগ্রাম শহর ছেয়ে যায় বিজ্ঞান কলেজের লিফলেটে। প্রতিটা লিফলেটে থাকে একটা ছেলেকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলার লিখিত স্বপ্ন। সম্পূর্ণ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে পড়ালেখার অঙ্গীকার। সরল মনে অভিবাবকরা নিজের ছেলে/মেয়ের ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে জাহেদের লিফলেটে বিশ্বাস করে ছেলে মেয়েদের ভর্তি করায় বিজ্ঞান কলেজে। ভর্তি করানোর পর এবার শুরু হয় জাহেদের খেল্। ধরুন পড়ালেখার জন্য খরচের পরিমাণ যদি হয় বছরে সত্তর হাজার সেখানে এর বাইরে উদ্ভট কয়েকটা ফি দেখিয়ে তার চাঁদাবাজি থাকবে ২০-৩০ হাজার। উদ্ভট ফি গুলো অনেকটা এরকম- বার্ষিক ক্রীড়া- ২০০০, মিলাদ- ১০০০, চিকিৎসা ফি- ১০০০।যেখানে এই কলেজটা চলে একটা মার্কেটের ৪ তলায় সেখানে তার অাবার ক্রীড়া ফি ২০০০ ! চিকিৎসা ফি ১০০০, জানেন কিরকম চিকিৎসা ? একবার কয়েকজন ছেলে দৌড়াদৌড়ি করতে গিয়ে জানালার সাথে ধাক্কা খেয়ে গ্লাস ভেঙে তার পিঠ কেঁটে যায়। পরে ছেলেটার বন্ধুরা মিলে ছেলেটাকে চিটাগাং মেডিকেলে নিয়ে যায়। ছেলেটে সুস্থ হয়ে ক্লাসে যেদিন অাসে সেদিনই তার ডাক পড়ে অধ্যক্ষের রুমে। জাহেদ কর্কশ গলায় বিশ্রীভাবে ছেলেটিকে গালিগালাজ করে বলে তুমি কলেজের রুলস ব্রেক করছো তাই তোমাকে জরিমানা করা হয়েছে ৩ হাজার অার গ্লাস রিপেয়ারিং এর জন্য ২ হাজার। মোট ৫ হাজার টাকা পে করার জন্য সময় দেয়া হয়েছিল ২ দিন। ছেলেটি জাহেদের পা পর্যন্ত ধরে কান্নাকাটি করেছিল কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। ২ দিনের মধ্যে তার উপর চাপানো ৫ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয়েছিল। এই হলো মহামতি জাহেদ স্যারের চিকিৎসা ! এটা তো গেল চিকিৎসা এবার অারেকটা গল্প শুনুন- একটা ছেলে তার পারিবারিক সমস্যার কারণে তার ইয়ারলি ফাইনাল পরীক্ষার ফি যথাসময়ে দিতে পারবে না এ মর্মে দরখাস্ত করে কয়েকটা দিন সময় চেয়েছিল অধ্যক্ষ জাহেদের কাছে। কিন্তু মহামতী জাহেদ কি করেছিলো জানেন- বলেছিল তোমার ফ্যামেলীতে ক্যাশ নায় বুঝলাম এর বাইরে সম্পত্তি কি অাছে ! ছেলে ত অবাক।
স্যার এসব কি বলে ! বোকা ছাত্র তখনো বুঝতে পারেনি ধুরন্ধর স্যার কি বোঝাতে চেয়েছে। কিন্তু চালাক জাহেদ পরের লাইনে তার কথার ব্যাখ্যা দিলেন।
বললেন তোমার মায়ের সোনার চেইন, কানের দুল, চুড়ি নেই ? এগুলোর একটা এখানে অফিসে বন্ধক রেখে এক্সামের এডমিট কার্ড পাবে নইলে পরীক্ষা দিতে পারবা নাহ। অাবার সে সাথে ছাত্রকে দয়া করে তার উপর চাপিয়ে দিলেন অারেকটা শর্ত। অমুক তারিখের মধ্যে এটা দিতে হবে নইলে পরবর্তীতে এটার সাথে জরিমানা যুক্ত হবে ২ হাজার ! তবে, শিক্ষা ব্যাপারী জাহেদ একজন শিক্ষার্থীকে টাকার অঙ্কে বড় ধাক্কা দেয় কখন জানেন ? সে প্রত্যেক স্টুডেন্টকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পড়ালেখার জন্য ট্যাব দিবে বলে ভর্তি সময় একটা অঙ্ক নিয়ে নেয়। প্রথম সাময়িকে বলে দ্বিতীয় সাময়িক তারপর বলে সেকেন্ড ইয়ারে দিবে। সেকেন্ড ইয়ারে অাইসিটি ল্যাবের রুম দেখিয়ে বলে এটাই অামাদের ডিজিটাল রুম। তোমরা সপ্তাহে অাধাঘন্টা করে এখানে এসে এগুলো ব্যবহার করতে পারবে। এভাবে সে ট্যাব দিবে বলে ভর্তির সময়ে যে ১৫ হাজার নিছিলো সেটা পেঁটে চালান করে দেয়। অামি একবার একটা ছেলেকে জিঙাসা করছিলাম ল্যাবের অবস্থা কেমন ! সে ছেলে অামাকে যেটা বলেছে তার জন্য সত্যিই অামি প্রস্তুত ছিলাম নাহ। ছেলেটি বলল কেউ ভয়ে ল্যাবে যায় নাহ। উৎসাহী হয়ে জানতে চেয়েছিলাম কেন ! সে বলেছিল সাধারণ বেঞ্চ ভাঙলে যেখানে হাজার টাকা জরিমানা দিতে হয় সেখানে কোনোরকমে যদি কোনো পিসি নষ্ট হয় তাইলে তো পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। তাই ভয়ে যাই নাহ। এসব তো গেল চকবাজারে বসে বিজ্ঞান কলেজ নিয়ে জাহেদ সাহেবের ধান্ধাবাজি। তবে অামাদের জাহেদ স্যার এতটা বোকা নাহ। একটা মিনিটও সে নষ্ট করতে চায় নাহ। দেশীয় ধান্ধাবাজির পাশাপাশি অান্তর্জাতিক বাটপারিতে যুক্ত হলেন। খুললেন নতুন ব্যবসা- চীনে শিক্ষার্থী পাঠাবেন স্কলারশিপে ! সেই ব্যবসার প্রথম ধাপ হিসেবে স্যার তার বউকে পাঠিয়ে দিলেন চীনে। ধান্ধাবাজিতে সিদ্ধহস্ত জাহেদ ভালো করেই জানেন কিভাবে ব্যবসায় লাভ করতে হয়। তাই সে কিছুদিন ভালো সেবা দিয়ে অাস্থা অর্জন করল। তারপর শুরু হলো খেলা। চীনের সেরা ইউনিভার্সিটিগুলোর নামের তালিকা দিয়ে টাকা নিয়ে এবার ভর্তি করানো শুরু করল চীনের থার্ড লেবেলের ভার্সিটিগুলোতে। বাটপারীর স্বীকার হওয়া ছেলেগুলোর অভিবাভকরা যখন জাহেদের কাছে এসব বাটপারির কারণ জানতে চেয়েছে তার ক্লিয়ারকার্ড উত্তর ছিল অাপনার ছেলে নিজের যোগ্যতায় যেখানে টিকছে সেখানে পড়ছে, এখানে অামার করার কি অাছে ! তবে জাহেদ স্যার শুধু যে স্বপ্ন ভাঙতেন তা কিন্তু নাহ স্যার অনেকের স্বপ্ন গড়েও দিতেন। অামি এরকম একটা ছেলেকে চিনি যে অামার ক্লাসমিট ছিল। তার বিভাগ ছিল মানবিক। একদিন হুট করে চকবাজারে তার সাথে দেখা। সে বলে- বন্ধু দোয়া করিস। চীনে যাচ্ছি। ডাক্তার হয়ে ইনশাল্লাহ অাসবো। অামার চোখ তো গোলাপ হয়ে গেল ! বললাম তুই ত মানবিক নিয়ে পড়ছস মেট্রিক,ইন্টার। তাইলে ডাক্তারি কেমনে ? তারপর সে বলল পুরো বিষয়। স্যারের বদান্যতায় অামার বন্ধু এখন ডাক্তারী পড়ে চীনে। এতসব স্যারের নিয়মিত অপকর্মের পরও স্যার কেমনে নিরাপদ থাকে সেটা নিয়ে অাপনি নিশ্চয়ই ভাবছেন ! নো টেনশন, স্যার সেটাও ম্যানেজ করে নিয়েছেন। একসময় যখন বিএনপি জামাত ক্ষমতায় ছিল তখন স্যার ছিলেন দৌদন্ড প্রতাপশালী ব্যক্তিত্ব। সমৃদ্ধ ছাত্রজীবনে রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ছিলেন শিবিরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের শীর্ষ নেতা। সুতরাং নিজেকে বাঁচাতে তার অার অন্যদিকে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে নি। এরপর অাওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলো স্যারও ভোল পাল্টালেন। অগাধ টাকার মালিক স্যার যোগাযোগ শুরু করলেন অাওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে। টাকার বান্ডিলে অাওয়ামী লীগ নেতারাও স্যারকে সাদরে গ্রহণ করলেন। স্যার হয়ে গেলেন অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে অধিক ক্ষমতাবান। এভাবে চলতে থাকল। কিছুদিন পর স্যার চিন্তা করলেন মাল্টিক্লাস অাওয়ামী লীগে থেকে তার ব্যবসায় শুধু চলছে কিন্তু তার ক্লাসের পরিবর্তন করতে হবে। ভেবেচিন্তে স্যার এবার যোগ দিলেন জাতীয় পার্টিতে এবং এখন পর্যন্ত তিনি জাতীয় পার্টির এক্সিকিউটিভ মেম্বার উদ্দেশ্য অাগামী সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির হয়ে কোতোয়ালীর যে কোন অাসন থেকে সংসদ নির্বাচন করা। সে লক্ষ্যে বিভিন্ন দিবসে তার শাটানো পোষ্টারে ছেয়ে যায় কোতোয়ালী সংলগ্ন এলাকা। শুধু হাই প্রোফাইল নেতাদের হাতে রেখে নিজেকে নিরাপদ ভাবত নাহ জাহেদ। সে সাথে এলাকার ছোটখাটো মাস্তানদের সাথেও সু-সম্পর্ক রাখতেন তিনি। অর্থাৎ নিজের মসনদ নিরাপদ করার জন্য যা যা করা দরকার তার একটিও অপূর্ণ্য রাখেন নি সময়ের সফল এই শিক্ষা ব্যাপারী !
কিন্তু স্যার হয়তো ভুলে গেছিলেন উপরে অাল্লাহ বলে একজন অাছেন। তিনিও বিভিন্ন উসিলায় দুনিয়াতেই পাপীদের শাস্তি দেন।
এবার অাসেন ছাত্রলীগ বনাম ক্ষমতাধর জাহেদ ! চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ গত কয়েকবছর ধরে শেখ হাসিনার অঙ্গীকার জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে কোমড় বেঁধে মাঠে নামে। কখনো অতিরিক্ত ফি বাতিল কখনো গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া কখনোবা স্কুলের মাঠ অবৈধ দখলমুক্ত করার অভিপ্রায়ে একের পর এক সফল অান্দোলন গড়ে তুলে। যেখানেই শিক্ষার্থীদের সাথে জুলুম সেখানেই নিপীড়িত শিক্ষার্থীদের পাশে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ এ যেন পর্দার এপিঠ ওপিঠ। অাস্তে অাস্তে এভাবে নগর ছাত্রলীগ অর্জন করে নেয় শিক্ষার্থী ও অভিবাবক মহলের অাস্থা। শিক্ষার্থীরা যাতে তাদের যে কোন অভিযোগ অনায়াসেই দিতে পারে সেজন্য নগর ছাত্রলীগ নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে স্থাপন করে অভিযোগ বাক্স। এখানে শিক্ষার্থীরা লিখিত অাকারে তাদের উপর প্রতিষ্ঠানের জুলুম কিংবা শিক্ষানীতির বাইরে কতৃপক্ষ কিছু চাপিয়ে দিলে সেটা জানাতো। চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ সেটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিত। এ যেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ছাত্রলীগ যারা প্রকৃত অর্থেই ছাত্রসমাজের প্রতিনিধিত্বকারী।
এভাবে একটা সময় অভিযোগ অাসে বিজ্ঞান কলেজ শিক্ষা বাণিজ্য করছে।
নগর ছাত্রলীগ বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পেয়ে বিজ্ঞান কলেজে প্রতিনিধি পাঠায়। তারা রেজিস্ট্রেশনে যে অতিরিক্ত অাদায় করছে সেটা শিক্ষানীতির বিপরীত তা কতৃপক্ষকে জানায় এবং হুশিয়ার করে দেয় যেন এ কাজ ভবিষ্যতে অার না করে এবং যা অতিরিক্ত অর্থ নিয়েছে তা যেন ফেরত দেয় এবং ছাত্রলীগের জিরো টলারেন্সে কতৃপক্ক অতিরিক্ত টাকা শিক্ষার্থীদের ফেরত দেয় যা এর পরের দিনগুলোর জাতীয় দৈনিকে ফলাওভাবে এসেছিল। এটা হচ্ছে বিজ্ঞান কলেজের সাথে নগর ছাত্রলীগের গতবছরের কর্মকান্ড। এরমধ্যে একটা বছর যায়। ছাত্রলীগও ব্যস্ত শিক্ষার্থীদের অন্যান্য ইস্যুতে। যাই হোক, গতবারের মত এবারও অভিযোগ এল বিজ্ঞান কলেজ জাতীয় শিক্ষানীতির বাইরে অদ্ভুত রিজনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের এডমিট অাটকে রেখে উন্নয়ন ফি নামে ৫০০০টাকা অাদায় করছে। অাবার কিছু ছেলেমেয়েকে প্রতারণা করে অন্য কলেজে বিক্রী করে দিয়েছে। নগর ছাত্রলীগ বারবার কলেজ অধ্যক্ষকে অনুরোধ করে উন্নয়ন ফি বাদ দিয়ে যেন শিক্ষার্থীদের এডমিট কার্ড দিয়ে দেয় এবং কেন কিছু শিক্ষার্থীকে বিক্রি করে দিয়ে তাদের সাথে প্রতারণা করল সেটা জানতে চায়। অধ্যক্ষও স্বীকার করে সে অন্যায় করছে এবং উন্নয়ন ফির টাকা ফেরত দিবে। ছাত্রলীগও অভিবাবক মহলকে জানায় এইচএসসি পরীক্ষার অাগে কলেজ অবৈধ উন্নয়ন ফি ৫০০০ ফেরত দিবে যা অধ্যক্ষ জাহেদ মৌখিকভাবে ছাত্রলীগকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এই কয়েকদিনে কৌশলী জাহেদ কৌশলে কিছু অাওয়ামী লীগ নেতাকে ম্যানেজ করেন। প্রায় ৯৭৩ জন শিক্ষার্থীর ৫০০০ করে ক্যাশ ৪৪ লাখ টাকা না দেয়ার বন্দোবস্ত করতে থাকেন। প্রচন্ড বুদ্ধিমত্তার অধিকারী জাহেদ চালাকী করে টাকা ফেরত দেয়ার নির্দিষ্ট তারিখটাও রেখেছিল
এইচএসসি পরীক্ষার এক দিন অাগে। যাতে অভিবাবকরা এলে তাদের হুমকি দিয়ে দূর্বল করা যায়। স্বাভাবিকভাবেই একজন অভিবাবক তার সন্তানের এই টার্নিং পয়েন্টের পরীক্ষার অাগে ভীতস্বন্ত্রস্ত থাকবে এই মোক্ষম সুযোগটায় জাহেদ কাজে লাগাতে চেয়েছিল। যাই হোক, পরিকল্পনা মোতাবেক অাগালেন তিনি।
অভিবাবকরা নির্দিষ্ট দিনে অাসলেন টাকা ফেরত নিতে। জাহেদ এবার শুরু করলেন তার খেলা। অধ্যক্ষের ঘূর্ণি চেয়ারে বসে দুলতে দুলতে মুচকি হাঁসিতে অবিভাবকদের টাকার বদলে দিতে থাকেন মৃদু ধমক। জাহির করতে থাকেন নিজের ক্ষমতা। ছাত্রলীগকে গুন্ডা নামে অবিহিত করে সে সকল গুন্ডাদের বস বলে অবিভাবকদের সামনে নিজেকে পরিচয় করিয়ে দেয়। নিজেকে সত্যিকারের বস্ প্রমাণ করার জন্য এবার তিনি বাস্তব খেলায় নামলেন। অাগে থেকে ভাড়া করা কিছু ছেলেকে দিয়ে তার কলেজ বিল্ডিংয়ের রাস্তায় নগর ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে মিছিল করিয়ে এবং ককটেল ফুটিয়ে প্রমাণ করতে চেষ্টা করলেন নগর ছাত্রলীগ তার ক্ষমতার কাছে কিছুই নাহ। ভীতস্বন্ত্রস্ত গার্ডিয়ানরা দেখলো শিক্ষকের মুখোশের অাড়ালে এক ভয়ংকর প্রতারককে। তার মধ্যে জাহেদ জানিয়ে দিল সে উন্নয়ন ফি'র ৫০০০ এর মধ্যে ১ টাকাও ফেরত দিবে নাহ। তার মধ্যে কিছু শিক্ষার্থী নগর ছাত্রলীগকে অবিহিত করে ঘটনাটি। কিছুক্ষণের মধ্যেই নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল অাজিম রনি ভাই পাশ্ববর্তী ইউনিট চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসীন কলেজ ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীকে নিয়ে বিজ্ঞান কলেজে যান। তিনি খুব নম্রভাবে অধ্যক্ষ জাহেদকে জাতীয় শিক্ষানীতির বাইরে নেওয়া অতিরিক্ত ৫০০০ টাকা ফেরত দিতে বলেন যেটা সে কিছুদিন অাগে ফেরত দিবে বলে মৌখিকভাবে নগর ছাত্রলীগকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। প্রতিউত্তরে অধ্যক্ষ জাহেদ জানান উপরমহলের সাথে কথা হয়েছে তারা বলেছে টাকা ফেরত না দিতে। তখন নগর ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক জানতে চান শেখ হাসিনার শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে নির্দেশ দেয় এমন ক্ষমতাবান কারা ? প্রতিউত্তরে জাহেদ দম্ভোক্তির সুরে কয়েকজন প্রতাপশালীর নাম বলেন। প্রখর দূরদর্শী নগর ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকও বুঝে গেলেন যা করার এখনই করতে হবে। নইলে পরে অাইন অাদালতের মারপ্যাঁচে কিংবা উপর ম্যানেজ করে ৯৭৩ জন অভিবাবকের ঘামে ঝড়া পরিশ্রমের টাকা হাওয়া বানিয়ে ফেলবে এ জাহেদ। বুদ্ধিদীপ্ত সেক্রেটারি এবার হালকা ধমকের সুরে জাহেদকে বলল টাকা অাজকেই ফেরত দিতে হবে এবং কোনো উপরমহলের সুপারিশে অামাকে নড়ানো যাবে নাহ। জানু খেলোয়াড় জাহেদও বুঝে গেলেন এখানে থাকলে অাজ অার তার রেহাই নেই, টাকা তাকে দিতেই হবে। এবার সে স্থান ত্যাগ করার বাহানা দিতে থাকল এবং ৩০ মিনিটের মধ্যে অাসার কথা বলে। নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকও বুঝল এটা ভীতু বাটপার। অারেকটু কঠোর হলে ফেরত পাওয়া যাবে শিক্ষার্থীদের টাকা। এবার তিনি জাহেদের হাত ধরে বললেন চলেন অাপনার রুমে। অাপনাকে টাকা ফেরত না দেয়া পর্যন্ত এখান থেকে যেতে দেয়া হবে নাহ। জাহেদ তার অধ্যক্ষ রুমে যেতে অপারগতা জানালে সেক্রেটারি তাকে টেনে তার অফিসে নিতে চাইলে সে এক মন্ত্রীর সাথে কথা বলতে বলেন।
এতে উত্তেজিত হয়ে নগর সেক্রেটারি জাহেদকে জোর করে তার রুমে নিয়ে যাওয়ার জাহেদ যেতে না চাইলে তার মুখে ঠুসি মেরে হালকা গলাধাক্বা দিয়ে তার চেয়ারে বসিয়ে দেয় যেখানে তখন ডজনখানেকেরও বেশী সংবাদকর্মী, ক্যামেরা পার্সন ও ১০-১২ জন পুলিশ উপস্থিত ছিল। জাহেদও এবার চুপসে গেলেন। মন্ত্রী মিনিষ্টারের কথা বলার পরও সেটাকে পাত্তা না দিয়ে তাকে গলাধাক্কা দেয়ার প্রকৃত অর্থ তিনি বুঝে ফেললেন। এবার জাহেদ নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদককে দেখালেন তার ক্যাশে অত টাকা নায়। নগর ছাত্রলীগ সেক্রেটারি বললেন যা অাছে অাগে তা দাও। সে প্রায় ১ লাখ ৭৩ হাজার টাকা অভিবাকদের ফেরত দেয় এবং বাকীটাকা অাগামীকাল ফেরত দিবে বলে পুলিশকে মুচলেকা দেয়। এটাই হচ্ছে সেদিনের পুরো ঘটনার চিত্র।
এবার অাপনারা বলুন এখানে নগর ছাত্রলীগ সম্পাদকের দোষটা কোথায় ?
বুদ্ধি খাটিয়ে ইনস্ট্যান্ট টাকা অাদায় করে অভিবাবকদের ফিরিয়ে দেয়া কি চাঁদাবাজি ? জাহেদকে বের হওয়ার সুযোগ দিলে অন্য কোনো মারপ্যাচে সে নিজেকে বাঁচিয়ে ফেলবে তাই তাকে অাটকে রাখার জন্য একটা ঘুষি কি খুব বেশী অপরাধ যেখানে এটার বিপরীতে ৯৭৩ জন অভিবাবকের কত রক্ত ঘাম করা পরিশ্রমের অর্থ ! সমালোচনা করার পূর্বে অন্ততপক্ষে একবার এ সমস্ত প্রতারিত শিক্ষার্থীদের একজনকে নিজের ভাই-বোন ভাবুন অথবা অভিবাবকদের একজনকে অাপনার বাবা-মার অাসনে বসান তারপর অাপনার বিবেক কি বলে দেখুন।
(কোনো ধরনের দলাদলিতে নিজেকে রাখতে চাই নাহ। তবে ঘরের মানুষদের ব্যক্তিগত অাক্রোশে যেখানে ধূলিস্মাৎ হতে বসেছে নগর ছাত্রলীগের অর্জন তখন মন কেঁদেছে। লিখব নাহ লিখব না চিন্তা করতে অাজ লিখে ফেললাম যাতে মূল বিষয়টা সবাই জানে। কারণ সবার জানা উচিত।

No comments

'; (function() { var dsq = document.createElement('script'); dsq.type = 'text/javascript'; dsq.async = true; dsq.src = '//' + disqus_shortname + '.disqus.com/embed.js'; (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(dsq); })();