Breaking News

খুব সুন্দর করে বললো,"ভাইয়া চেক হবে, একটু নেমে ব্যাগটা খুলেন।BD420

মিরপুর ১ থেকে বাসায় আসার জন্য পাঠাও ডেকে উঠেছিলাম, খুব স্বাভাবিকভাবেই যাচ্ছিলো, টেকনিকাল মোড়ে আসতেই এক সার্জেন্ট বাইক থামালো।

 খুব সুন্দর করে বললো,"ভাইয়া চেক হবে, একটু নেমে ব্যাগটা খুলেন।"

 আমিও নেমে সুন্দরমত ব্যাগ দিলাম তার হাতে, সে পাশে থাকা আরেক সার্জেন্টকে ধরায়ে দিয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করলো কই যাবো, কি নাম, কি করি, কই পড়ি টাইপের প্রশ্ন।

 উত্তর দিতে দিতে পাশে কয়েকবার তাকালাম। 

আশ্চর্যজনকভাবে পাশে দাঁড়ানো ব্যক্তি চুপ করে আমার ব্যাগ হাতে নিয়ে দাড়ায়ে আছে, তার মধ্যে চেক করার কোন আলামত দেখলাম না। 

একটু পরে খুব সুন্দর ভাবে আমাকে বললো,"যান চলে যান!" আমিও বাইকে উঠলাম।

 কিছুদুর যেতেই আমার বাইকার বললো,"ভাই নামেন! ব্যাগটা একবার চেক দেন!" বলে একপাশে রাখলো, রেখে পিছনে তাকায়ে দেখলো কেউ দেখছে নাকি! পুরা ব্যাগ খুজলাম, কিছু পাইলাম না, ব্যাগ এর সাইড পকেটের একটায় পানি আরেকটায় রেজিস্টার অফিস থেকে দেওয়া NOC, আমি সেখানে হাত দিতেই কাগজে রোল করা কিছু একটা বের হলো, সেটা খুলতেই দেখলাম প্রায় ৫০ গ্রামের মত গাজা।

 দেখে একটু অবাক হইলেও বাইকার বলাতে সেটা ড্রেনে ফেলে দিলাম। 

আবার বাইকে উঠলাম এবং কল্যানপুর বাসস্টপেজের পাশে একটা পেট্রোল পাম্পের সামনে জ্যামে আটকা পড়লাম। 

কিছু বুঝার আগেই, কোথা থেকে একজন কনস্টেবল এসে হাজির, আমাকে বলে,"নামেন! আপনার ব্যাগ চেক হবে!" আমাকে নামায়ে ব্যাগ আবার খুলানো হলো এবং কোন এক দিব্য শক্তি বলেই হয়তো তার হাত চলে গেলো সাইডের পকেটে যেখানে গাজা ছিলো। 

এবং ভদ্রলোক অনেক আশা নিয়ে আমার NOC বের করে খুলে চোখমুখ কুচকে ফেলে বললেন,"এই শা** ডা কি?" তাকে বললাম খুলে সব,আইডি কার্ড দেখাইলাম। 

সে সব শুনে কাগজটা ছেড়া শুরু করলো। আমি তাকে খুব সুন্দর করে অনুরোধ করলাম কাগজটা যেন না ছিড়ে। সে শুনলোই না পালটা আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা শুরু করলো।

 আবার ভদ্রভাবে বললাম,"স্যার জিনিসটা খুব দরকারি! নষ্ট করবেন না!" সে আমার কলার ধরে আমার ঘাড় বরাবর থাপ্পড় বসায়ে গালাগালির মাত্রা বাড়িয়ে দিলো।

 আশেপাশে লোকজন জড় হয়ে মজা দেখা শুরু করে দিয়েছে। বিভিন্নজনের বিভিন্ন মন্তব্য, একেকজন দেশবরেণ্য চিন্তাবিদের মত আলোচনায় মশগুল, তারা দেখছেন আর নিজেদের মধ্যে কথা বলছেন।

 আমি সার্জেন্টকে বারবার বললাম, আমি স্টুডেন্ট, ব্র‍্যাকে পড়ি। তার শোনার সময় নাই। সে NOC পেপার ছিড়তে ব্যস্ত। তখন আমার পাঠাও বাইকার সার্জেন্টকে বললেন,"স্যার ছাইরা দেন! স্টুডেন্ট মানুষ!" সার্জেন্ট আমার NOC ছিড়ে বাইকারের গায়ে ছুড়ে মারলো, সেটা তুলতে যাবো মাটি থেকে, তখনই আমাকে বুট দিয়ে সজোরে এক লাথি দিলো সেই সার্জেন্ট "ভদ্রলোক"।

 আমার বাইকার আমাকে চুপচাপ বাইকে উঠতে বললেন। অপরদিকে সার্জেন্টের মুখ দিয়ে গুলির মত গালি বর্ষিত হচ্ছে। বাইকে উঠে রওনা দেওয়ার সময় কোন পাশ থেকে একজন বলে উঠলো,"প্রাইভেটের পোলাপান, ছাইড়া দেওয়া উচিত না! যেকোন কিছু হইতে পারে!"


No comments