Breaking News

বয়স্কদের জন্যও বিনোদন কেন্দ্র || RIGHTBD


প্যারেন্টস
 লাউঞ্জবয়স্কদের বিনামূল্যের বিনোদন কেন্দ্র অভিনব এমন একটি প্রতিষ্ঠানের জন্ম ইতিহাস জানতেচাইলে স্বপ্নদ্রষ্টা  প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সৈয়দ আবু দাউদ ফিরে গেলেন ১৫ বছর আগে। বললেনআমি আমারপরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রায় প্রতিবছরই কক্সবাজার বেড়াতে যেতাম।

 স্ত্রী বললেনআমরাতো প্রায়ই যাই এবারবাবা মাকে নিয়ে গেলে কেমন হয়আমি বললামতারা আসলে আমাদের সঙ্গে গিয়ে সেভাবে মজা পাবেন নাযেটাতাদের সমবয়সীদের সঙ্গে গিয়ে পাবেন। যেই কথা সেই কাজ। সেবার আমার পরিচিতদের বাবা– মাদের নিয়ে প্রায়৩০/৪০ জন হয়েছিল। তাদেরকে কক্সবাজার বেড়াতে নিয়ে যাই। এটা ২০০৩ সালের কথা।
 
বলতে পারেন প্যারেন্টসলাউঞ্জ নামের প্রতিষ্ঠানের সূত্রপাত সেখান থেকেই আবু দাউদ বলেনএরমধ্যেই একবার মনে হলোএভাবে বছরে একবার বাবা– মাদের আনন্দ দিয়েতো লাভ নেই।তাদের জন্য নিয়মিত আনন্দের জগৎ তৈরি করতে হবে।
 
সেই চিন্তা থেকে আমরা ২০১৩ সাল থেকে নগরীর বিভিন্নস্থানে বয়স্কদের নিয়ে নানা ধরণের অনুষ্ঠান করতে শুরু করলাম কখনো হাটখোলাকখনো প্রেসক্লাবের আবদুলখালেক মিলনায়তনে গেট টুগেদার করতাম এসব করে করেই ভাবলামঅনিয়মিত এই অনুষ্ঠানকে নিয়মিত রূপদেয়া যায় কিনাএই চিন্তা থেকে ২০১৪ সালে নগরীর জামালখান ৮৭ এস এস খালেদ সড়কের মেট্রোপলিটন কমার্সকলেজের গলির একটি বাড়িতে প্যারেন্টস লাউঞ্জএর স্থায়ী ক্যাম্পাস করি।
 
২০১৪ সালের নভেম্বর মাস থেকেসেখানেই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলছে। প্যারেন্টস লাউঞ্জএর স্বপ্নদ্রষ্টা সৈয়দ আবু দাউদ চট্টগ্রামে কর কমিশনারহিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন লেখালেখির সুবাদে তাঁকে বেশিরভাগ মানুষই ছিনেন বাদল সৈয়দ নামে।


 বুধবারবিকেলে প্যারেন্টস লাউঞ্জএর ইতিবৃত্ত জানাতে সহউদ্যোক্তাদের নিয়ে পূর্বকোণ স্টুডিওতে এসেছিলেন তিনি।পরিবর্তণের কারিগর শীর্ষক সাপ্তাহিক আয়োজনে আলাপকালে বয়স্ক এই বিনোদন কেন্দ্রের খুঁটিনাটি বহু বিষয় তুলেধরেন উদ্যোক্তা  স্বেচ্ছাসেবকগণ।

প্যারেন্টস লাউঞ্জে কি ধরণের সেবা পাওয়া যায় জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক শামসুল আবেদীন বেলাল বলেনবয়স্ক বাবা মাকে নিঃসঙ্গ বিরক্তিকর অবসর জীবন থেকে খানিকটা পরিত্রাণ দিতেই প্যারেন্টস লাউঞ্জএর জন্ম।এখানে এসে মা বাবারা সমবয়সীদের সঙ্গে খাওয়াদাওয়ার পাশাপাশি আড্ডা দেবেনবই পড়বেনইচ্ছে হলে সিনেমাদেখবেন বা গান শুনবেন। সুযোগ রয়েছে ইনডোর গেমসেরও।

 যা তিনি রেস্তোরাঁপার্ক এমনকি নিকটাত্মীয়েরসামাজিক অনুষ্ঠানে পান না।
কারা এই বিনোদন কেন্দ্রে সেবা পেতে পারেনজানতে চাইলে শামসুল আবেদীন বলেন৬০ বছর বয়সী যে কেউএখানকার যাবতীয় সেবা পেতে পারেন। এজন্যে সেবা গ্রহীতাকে কোন টাকা পয়সা দিতে হয় না।

 সম্পূর্ণ বিনামূল্যেতিনি এসব সেবা পেতে পারেন।
কথা প্রসঙ্গে বাদল সৈয়দ জানানআমরা প্যারেন্টস লাউঞ্জ তালিকাভুক্ত  হাজার সদস্য রয়েছে। ঘটা কওে তাদেরজন্মদিন পালন করা হয়। ধরুনজানুয়ারি মাসে তালিকাভুক্তদের যাদের জন্মদিন পড়েছেতাদের সকলকে একত্রেএকটি দিনে আমন্ত্রণ জানিয়ে তাদের জন্মদিন পালন করা হয়।

এরকম বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দিনকে উপলক্ষ করে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় জানিয়ে বাদল সৈয়দ বলেনআমরা এসব অনুষ্ঠানে তালিকভুক্তদের সকলের উপস্থিতি নিশ্চিত করার চেষ্টা করি। দূর দূরান্তের সদস্যদেরকেআনতে প্রয়োজনে গাড়িরও ব্যবস্থা করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যয়ভার কিভাবে মেটানো হয় জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক শামসুল আবেদীনবলেনআমরা ৬৫ জন দাতা সদস্য আছি যারা এককালীন ১০ হাজার টাকা দিয়ে প্যারেন্টস লাউঞ্জ পরিচালনায়সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন।

 এর বাইরেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ব্যয় এই ৬৫ জন সদস্যই বহন করে থাকেন। দাতাসদস্যরাই প্রতিষ্ঠানটিতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন। এছাড়া দুজন কর্মী রয়েছেন বাবা– মায়েদের সেবায়।

তিনি জানানযে কেউ স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে এই বিনোদন কেন্দ্রে কাজ করতে পারেন।
সেবাগ্রহীতাদের সকলকে বাবা– মা হিসেবেই সম্বোধন করার রেওয়াজ রয়েছে প্যারেন্টস লাউঞ্জে।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই স্থায়ী সদস্য হিসেবে প্যারেন্টস লাউঞ্জ

এর সঙ্গে যুক্ত আছেনশিক্ষকউপস্থাপক  লেখিকা আঞ্জুমআমিন শাম্মী। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হবে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করেন তিনি। বলেনবাবা– মা– যাদের অপত্য ¯œ  ভালবাসায় আমি আজকের অবস্থানে এসেছিতাদের কথা ভেবেই আমি এমন মহৎ কাজেরসঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে নিয়েছি।

 আমার মা দীর্ঘ ২৫ বছর দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ছিলেন। গানলিখতেন। একটা সময় লক্ষ্য করলাম হাসিখুশিতে থাকা আমার মাকে বিষাদগ্রস্ততা ধীরে ধীরে আঁকড়ে ফেলছে।সারাক্ষণ মনমরা হয়ে বাসায় বসে থাকেন। প্যারেন্টস লাউঞ্জ নিয়ে আসার পর আমার মা যেনো নতুন জীবনফিরে পেলেন।

 আমিও আমার পুরনো বন্ধুদের অনেককে পেলাম এই প্যারেন্টস লাউঞ্জএর মাধ্যম্যে। দুই বছর নতুনজীবন দারুণভাবে উপভোগ করে একদিন মা পরকালে চলে গেলেন। মায়ের সেই আনন্দেও দিনগুলো অন্যদের মাঝেছড়িয়ে দিতে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছি প্যারেন্টস লাউঞ্জএর সঙ্গে।

বয়স্ক এই বিনোদন কেন্দ্রে মা– বাবাদের আনাগোনা কেমন জানতে চাইলে বাদল সৈয়দ বলেনআমরা আরও বেশিপ্রত্যাশা করি। এক্ষেত্রে যেটা দরকার সন্তানদেরকে এগিয়ে আসা। তারা যেমন তাদের সন্তানকে সাথে করে স্কুলে নিয়েযান একইভাবে বাবা– মাকে যদি তারা এই কেন্দ্রে দিয়ে যান তাহলে সহজেই বাবা

 মায়েদের নিসঙ্গ  বিরক্তিকরসময় আনন্দময় হতে পারে। যে বাবা– মা সারাজীবনের শক্তি– সামর্থ দিয়ে সন্তানকে বড় করেছেনশেষ বয়সে এসেতাদের বিড়ম্বিত জীবন আনন্দে ভরিয়ে দেয়াটা সন্তানের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। বাদল সৈয়দ বলেনএমন নয় যেসন্তানরা তাদের বাবা– মাকে ভালবাসে না।

 যাপিত জীবনের নানা টানাপোড়েনে বা ব্যস্ততায় সেকথা হয়তো মনেআসে না। প্যারেন্টস লাউঞ্জ সেই সন্তানদের জন্য উদ্দীপনা হিসেবে কাজ করছে বলে দাবি করেন তিনি।
প্যারেন্টস লাউঞ্জ

এর সেবা সম্পর্কে প্রচারণা না থাকায় কি আশানুরূপ জমছে নাএমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিষ্ঠাতাউদ্যোক্তাদের দুজন বাদল সৈয়দ  শামসুল আবেদীন বলেনএটা অনেকটা সঠিক। তবে পূর্বকোণএর মতোঅন্যান্য গণমাধ্যম যদি এই প্রতিষ্ঠানকে পরিচয় করিয়ে দিতে এগিয়ে আসে তাহলে প্যারেন্টস লাউঞ্জ পরিপূর্ণতাপাবে।

 তারা বলেনমূলতঃ ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটির কথা এতদিন ধরেছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তাছাড়া মুখে মুখেও যাতে এই বিনোদন কেন্দ্রের খবর মানুষের কাছে যায়সেচেষ্টাও অব্যাহত আছে।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে প্যারেন্টস লাউঞ্জ থেকে সেবা নিচ্ছেন সমাজসেবক জিয়াউদ্দীন খালেদ চৌধুরী। তিনি বলেনপ্রবীণবয়সের নানা বিড়ম্বনার একটি হলো বিনোদনের অভাব। দেখা গেছেজীবিকার তাগিদে কিংবা সন্তানেরপড়াশোনার কারণে বাবা– মা উভয়কে ব্যস্ত থাকতে হয়।

 ঘরে একা থাকতে থাকতে আমাদের মতো মানুষদেরহাঁপিয়ে ওঠার উপক্রম হলেও সেসগুলো দেখার কেউ থাকে না। এক্ষেত্রে প্যারেন্টস লাউঞ্জএর উদ্যোগ নিঃসন্দেহেপ্রশংসার দাবি রাখে। তিনি প্যারেন্টস লাউঞ্জকে বৃদ্ধাশ্রমের মতো কিছু করা যায় কিনা সেই পরামর্শ দিতেই দাতাসদস্য আঞ্জুম আমিন বলেনআসলে আমরা বৃদ্ধাশ্রমের কনসেপ্টটাই বাদ দিতে চাচ্ছি। বাবা– মা থাকবে সন্তানেরসঙ্গে।

 কেন তারা পরিবারের বাইরে অন্যত্র গিয়ে জীবনের শেষ দিনগুলো কাটাবেন ভালবাসাহীন ধুঁকে ধুঁকে।পরিবারের জন্য তারা জীবনভর যা দিয়েছেন সন্তানদের কর্তব্য তাদেরকে একই ধরণের আদর যত্ম দিয়ে ভরিয়েদেয়া। আমাদের একটা ধারণা হয়ে গেছে, ¯œ সবসময় নি¤œগামী। ¯œ শুধু নি¤œগামী কেন উর্ধ্বগামীওহতে পারেসেই ম্যাসেজটি আমরা তরুণদের দেয়ার চেষ্টা করছি। আমরা যে– যেই অবস্থায়ই থাকি বাবা– মাকেপরিত্যাগ করা চলবে না।
প্যারেন্টস লাউঞ্জ

এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কারণ জানতে চাইলে সমন্বয়ক সায়মা আক্তার বলেনবাসায় আমরা মা– বাবাকে সময় দেই। এখানে আসা মা

 বাবাদেরও যদি আমরা তরুণরা সময়  সেবা না দেইতাহলে তাদেরকে কেদেখবেসেই বোধ থেকে আমি যুক্ত হয়েছি। স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতে দারুণ লাগছে। সমাজকে কিছু দেয়ারতাগিদ যারা অনুভব করেন সেই সকল তরুণদেরকে তিনি  কাজে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

অনুষ্ঠান শেষে বাদল সৈয়দ জানানএকটা সময় আসবে যখন প্যারেন্টস লাউঞ্জকে শহরময় ছড়িয়ে দিতে আরওক্যাম্পাস করতে হবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন বিনোদন কেন্দ্রের প্রস্তাব আসছে এখনই। আমাদেরকেই এসবকরতে হবে এমনতো কথা নয়।

 আমরা শুরু করেছি এখন যে কেউ একাজে এগিয়ে আসতে পারেন।
তিনি জানানশুধু বিনোদনের ব্যবস্থা নয় আমরা জনহিতকর আরো কাজও করি। লোকজনের অভাবে কেউযদি ডাক্তারের কাছে যেতে না পারেন আমাদেরকে জানালে আমরা স্বেচ্ছাসেবকের ব্যবস্থা করে দেই।

 নেবুলাইজারঅক্সিজেন গ্যাস সিলিন্ডারহুইল চেয়ারসিক বেডডায়াবেটিক নিরূপনের মেশিন আমরা বিনামূল্যে ধার দিয়েথাকি।

No comments

'; (function() { var dsq = document.createElement('script'); dsq.type = 'text/javascript'; dsq.async = true; dsq.src = '//' + disqus_shortname + '.disqus.com/embed.js'; (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(dsq); })();