Breaking News

বাংলাদেশ পুলিশ আমাদের আস্থা আমাদের অহংকার || RIGHTBD

গত ১৯/০৪/২০১৮ প্রচন্ড ঝড়বৃষ্টির রাত। মানিকগঞ্জ সদর থানার জাগির চেকপোস্টের খালের পাশেই কোলা ব্যাঙগুলো বৃষ্টির অপেক্ষায় ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর করে ডাকছে। রাত্রীকালীন বেপরোয়া গাড়িগুলো ছুটে চলেছে অবিরাম। গাড়ীর হেডলাইটের আলো পুলিশের বুকে জড়ানো ক্রস বেল্টের উপর আলো প্রতিফলিত হওয়ার সাথে সাথে চিকচিক করে উঠেছে। পুলিশ সিগন্যাল দিলে কোন গাড়ি থামে, কোনটা আইন অমান্য করেই দ্রুতবেগে চলে যায়।
>চার্লি ওয়ান টু কিলো ১১.. গভীর রাত, ঘুমাবেন না। রাস্তায় চেকপোস্ট করেন।
<কিলো ১১, রিসিভড স্যার...
ফুস করে একটি নোয়াহ মাইক্রোবাসের ভিতরের আলো নিভে যায়। কথায় বলে পুলিশের মন চোর চোর।
কন্সটেবল নয়ন নোহা গাড়ীটা সিগন্যাল দেয়।
গাড়ির ভিতরে তিনজন পুরুষ লোকের সাথে একটি মেয়ে বাচ্চাকে দেখা যায়।
নাম জিজ্ঞাসা করতে জানায় তাদের নাম আজাদ ,শরীফ ও রুবেল।
>বাচ্চাটির আম্মা কোথায়?
<মা ঢাকাতে।
কোথায় গিয়েছিলো ?
<কুষ্টিয়া লালন শাহের মাজারে মানত করেছে, দুই দিন আগে সেখানে গেছে।
এই ছোট বাচ্চাকে রেখে ওর মা দুই দিন থাকে কেমনে?
< মা চাকরি করে তাই যায় নি ।
পুলিশ অফিসারের সন্দেহ বাড়তে থাকে।
এরপর ভিন্ন ভিন্ন ভাবে বাচ্চার নাম জিজ্ঞাসা করলে কেউ তমা, আন্নি, বলে পরিচয় দেয়।
ঘোর কাটে না মনিরের। কোথায় যেন খটকা লেগে যায়। বাচ্চাটির বাবা পরিচয়দানকারীর সাথে বাচ্চাটির চেহারার মাঝে মিল না থাকায় সন্দেহের তীরটা আরো বাড়তে থাকে।
গাড়ি থেকে নামিয়ে তিনজনকে আলাদা আলাদা ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে কারো কথার সাথে কারো কথার কোন সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া না। এরপর ব্যাগ তন্ন তন্ন করে কোথাও বাচ্চাটির জামাকাপড় খুঁজে পাওয়া যায় না।
সন্দেহের তীর ঢুকতে থাকে..
পুনরায় অপহরণকারীচক্রের সদস্যদের আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে নাম,ঠিকানা, জানতে চাইলে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে থাকে..
বিষয়টা অফিসার ইনচার্জ সাহেবকে অবগত করলে তিনি জানান, সবাইকে এ্যারেস্ট করে থানায় নিয়ে এসে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেন..
এরপর ভিকটিম, অপহরণকারী সহ থানায় নেয়ার পর তিন বছরের সুমাইয়া কে জিজ্ঞাসাবাদ বাবু "উনি তোমার কি হয়"?
উত্তর < ভাইয়া... কি ব্যাপার সুমাইয়া আপনারে ভাইয়া বলে কেন? আজাদের উত্তর  <বাচ্চাটির মাথায় সমস্যা আছে..
এরপর অপহরণ কারী চক্রের সদস্যদের ঠিকানা জানতে চাইলে কখনো রমনা থানা , হাতিরঝিল থানা এলাকার পরিচয় দিলে সংশ্লিষ্ট এলকায় পুলিশ পাঠালে তাদের নাম ঠিকানা সঠিক নয় বলে জানান।
আর কোন কিছু জানার দরকার আছে ? পরবর্তীতে কললিস্ট সংগ্রহ করা হলে ঘটনার তারিখ হতে বিগত তিন দিন যাবৎ কুষ্টিয়া থানা এলাকায় অবস্থান করেছে বলে জানা যায়।
বিষয়টা কুষ্টিয়া মডেল থানাকে অবগত করা হলে জানান সুমাইয়া নামে একটা বাচ্চা অপহরণ হয়েছে, অপহরণকারী চক্রটি ববাচ্চাটির পরিবারের কাছে দশ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করেছে। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটা অপহরণ মামলা প্রক্রিয়াধীন।
এরপর বাচ্চার বাবা মা কে ফোন করে বিষয়টা জানানো হলে প্রয়োজনীয় কুষ্টিয়া পুলিশ স্কটসহ দ্রুত মানিকগঞ্জ সদর থানায় চলে আসেন। সম্মানিত পাঠক, বুঝতেই পারছেন এরপর থানাতে কেমন হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি মা তার বাচ্চাকে পেয়ে আনন্দের কান্নায় বুক ভাসিয়ে দিল।
প্রয়োজনীয় নিয়মাবলী সম্পন্ন করে বাচ্চাটিকে তার বাবা মায়ের কোলে তুলে দিতে চায়।
মানিকগঞ্জ সদর থানার এসআই মো: মনিরুল মিয়ার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি জানান , " পুলিশের ভালো কাজের আত্বতৃপ্তিই পরবর্তী কাজের অনুপ্রেরনা দেয়। এমন সব ভালো কাজের বদৌলতে আল্লাহতায়ালা পুলিশকে হেফাজত করেন । এই বাচ্চা হয়ত ভুলে যাবে ওর জীবনে কি ঘটেছিল কিন্তুু ওর বাবা মা এর অনুভুতি ছিল "হয়ত টাকা না দিতে পারলে বাচ্চাকে মেরে ফেলত অপহরনকারীরা"। বাচ্চা ফিরে পাবার পর ভিকটিমের পপরিবারের আনন্দ অশ্রুই আমাদের চাকরির জন্য বড় পাওয়া।"
অপহরণ হওয়া বাচ্চা সুমাইয়াকে তার বাবা মা কোলে নিতে চাইলে মনিরের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে।
সুমাইয়া হয়তো ভাবতে থাকে বিডি পুলিশই ছিলো তার সর্ব শেষ আশ্রয়স্থল।।

No comments