Breaking News

ডিসি রোডে গোলাগুলিতে যুবলীগ নেতা নিহত || RIGHTBD


ক্যাবল (ডিশ) ব্যবসার বিরোধের জের ধরে দু’পক্ষের গোলাগুলিতে নগরীর চকবাজার থানার ডিসি রোড এলাকায় এক ব্যক্তি নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৫টি সিএনজি ট্যাক্সিসহ ৮টি গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ফরিদুল ইসলাম (৪০) পশ্চিম বাকলিয়া চাঁন মিয়া মুন্সী রোডের বাসিন্দা নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি চকবাজার ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বলে তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। আহতদের মধ্যে এক শিশু ও বৃদ্ধাও রয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ওই এলাকায় আগে থেকে ক্যাবল ব্যবসা করে আসছে এমদাদুল হক বাদশা। তিনি এক সময় যুবদল করতেন। তার মালিকানাধীন কেসিটিএন নামের একটি প্রতিষ্ঠান প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ওই এলাকার ক্যাবল ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।

 কিছুদিন ধরে তার এই ব্যবসা দখল করতে মরিয়া হয়ে ওঠে মোহাম্মদ মুসা, ফয়সাল, রাসেল ও মাসুদ এর নেতৃত্বে অপর একটি পক্ষ। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে এ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। মুসা, ফয়সাল, রাসেল ও মাসুদ তাদের দলবল নিয়ে এমদাদুল হক বাদশা’র ডিশ এর লাইন কেটে ফেলতে শুরু করে এবং নিজেদের ডিশ এর লাইন লাগাতে শুরু করে। এ নিয়ে জুমার নামাজের পর বাদশার লোকজন এগিয়ে আসলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের ওপর গুলি ছোঁড়ে।

 এতে ডিসি রোড কালাম কলোনির মুখে গুলিবিদ্ধ হন ফরিদুল ইসলাম (৪০)। সেখান থেকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে চমেক পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার জানিয়েছেন।

 তিনি বলেন, ফরিদুলের বুকের নিচের দিকে গুলি লেগেছিল। ঘটনার আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, এ ঘটনায় ৫টি সিএনজি ট্যাক্সিসহ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করা হয়। এরমধ্যে মিয়ার বাপের মসজিদের পাশে রাখা দৈনিক আজাদীর সিনিয়র রিপোর্টার সবুর শুভ’র মোটর সাইকেলটিও ভাংচুর করা হয়েছে।
চকবাজার থানার ওসি নুরুল হুদা বলেন, ক্যাবল ব্যবসার বিরোধে দুই পক্ষের বিরোধে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হয়েছেন। এদিকে গতকাল শুক্রবার বিকেলে চমেক হাসপাতালে ছুটে যান নিহত ফরিদুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা। সেখানে ফরিদুলের মেয়ে বাকলিয়া আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ফারজানা আক্তার সাথী বলেন, বাবা দুপুরে ভাত খেতে বাসায় এসেছিল।

এ সময় একটা ফোন আসলে তাড়াতাড়ি বাসা থেকে বেরিয়ে যান। এরপর বিকেল ৪টার দিকে আরেকটা ফোন আসে। কেউ একজন আমাদের মেডিকেলে আসতে বলে।’
ফারজানা আক্তার সাথী বলেন, ‘তারা এক ভাই ও এক বোন। তার একমাত্র ছোট ভাই ফরহাদুল ইসলাম (১০) বাকলিয়া আল কোরআন নুরানী মাদরাশার ছাত্র।’
এদিকে দুই পক্ষের গোলাগুলির মধ্যে পড়ে ১১ মাস বয়েসী এক শিশু ও তার দাদি আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। গোলাগুলির ওই ঘটনার আগে নাতি বেলাল হোসেনকে নিয়ে তার দাদি নুরজাহান বেগম বাসার কলোনির গেটে দাঁড়িয়ে থাকার সময় গুলিবিদ্ধ হয় বলে তার স্বজনরা জানান।
বেলালের বাবা সুমন বলেন, ‘দুপুরে আমার ছেলেকে নিয়ে কলোনির গেটে দাঁড়িয়ে ছিলেন আমার মা। এসময় গোলাগুলিতে আমার মা ও ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়।’বেলালের মাথা ও পায়ে এবং নুরজাহানের পেট ও পায়ে গুলি লেগেছে বলে জানান তিনি।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের চিকিৎসক জানান, বেলালের মাথার পাশ দিয়ে গুলি গেছে এতে তার মাথার ডানদিকের চামড়া উঠে গেছে।ঘটনার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সেখানে আরো বড় ধরণের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছেন স্থানীয়রা।
নগর পুলিশের চকবাজার জোনের সহকারী কমিশনার নোবেল চাকমা দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘রাতে নিহত ফরিদুল ইসলামের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম এজাহার নিয়ে চকবাজার থানায় এসেছেন। এটি মামলা হিসেবে গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।

No comments

'; (function() { var dsq = document.createElement('script'); dsq.type = 'text/javascript'; dsq.async = true; dsq.src = '//' + disqus_shortname + '.disqus.com/embed.js'; (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(dsq); })();