Breaking News

যারা বলেন বাংলাদেশের গার্মেন্টস মার খেলে উপায় কি হবে || RIGHTBD

যারা বলেন বাংলাদেশের গার্মেন্টস মার খেলে উপায় কি হবে? তাদের জন্য বলছি, বাংলাদেশে কয়েক লাখ আইটি গ্রাজুয়েট তৈরি হয়েছে । এরা আগামী দিনের সম্পদ। এরাই বাংলাদেশকে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যাবে।
ইতোমধ্যে প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদকের খাতায় নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশ। দেশে তৈরি কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও স্মার্টফোন রফতানি করা হচ্ছে বিভিন্ন দেশে। এরই সঙ্গে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ কথাটিও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে বিশ্ববাজারে। বাংলাদেশি প্রযুক্তিপণ্যের নতুন গন্তব্য হতে পারে আফ্রিকা।
প্রযুক্তিপণ্য রফতানির খাতায় প্রথম নাম লিখিয়েছে ওয়ালটন। এরপরেই আছে ফেয়ার ইলেকট্রনিকসের নাম। এ বছরই অন্তত আরও পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের কারখানায় প্রযুক্তিপণ্য তৈরি শুরু করবে বলে জানা গেছে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ‘পৃথিবীর খ্যাতনামা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে ল্যাপটপ ও কম্পিউটার তৈরির কারখানা স্থাপন করতে যাচ্ছে। এ বছরের মধ্যে এসব কারখানা কম্পিউটার উৎপাদন শুরু করবে।’ তিনি জানান, গত জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশের প্রথম কম্পিউটার তৈরির কারখানা চালু হয়েছে। এতে প্রতীয়মান হয় বাংলাদেশ আমদানিকারক থেকে উৎপাদনকারী দেশ হতে চলেছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশি কোম্পানিদের বলেছি আমাদের দেশে কারখানা করো। ব্র্যান্ড বদলাতে হবে না। তোমাদের ব্র্যান্ড বাংলাদেশে তৈরি করো। আপনাদের জন্য কর অবকাশ (ট্যাক্স হলিডে) সুবিধা আছে। তোমাদের আমরা জায়গা দেবো, যেসব সুবিধা চাও সাধ্যমতো দেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, “আমি দেখতে চাই স্যামসাং,এইচপি বা ডেলের পণ্যের গায়ে লেখা থাক— ‘মেড ইন বাংলাদেশ’।”
জানা গেছে, ল্যাপটপ রফতানি শুরু করেছে ওয়ালটন। শুরুতে নাইজেরিয়ায় ল্যাপটপ রফতানি করছে প্রতিষ্ঠানটি। ওই দেশের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওয়ালটন চুক্তি করে গত ২২ মার্চ। এছাড়া ওয়ালটন নেপাল, ভুটান, পূর্ব তিমুরসহ কয়েকটি দেশে ল্যাপটপ রফতানি করবে বলে জানা যায়। বিশ্ববাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা ওয়ালটন ল্যাপটপ রফতানির মধ্য দিয়ে কম্পিউটার রফতানিকারক দেশের তালিকায় নাম লেখায় বাংলাদেশ।
ওয়ালটনের উপ-নির্বাহী পরিচালক উদয় হাকিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ওয়ালটন ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন নেপাল, নাইজেরিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় রফতানি হচ্ছে।’ পরবর্তী গন্তব্য ভুটান বলে তিনি জানান। পাইপলাইনে আরও দেশ আছে বলেও জানান তিনি।
প্রযুক্তিপণ্য তৈরি ও রফতানিকে উৎসাহ দিতে সরকার এরই মধ্যে ১০ শতাংশ প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। এছাড়া ২০২৪ সাল পর্যন্ত রয়েছে ট্যাক্স হলিডে তথা কর অবকাশ সুবিধা। হাইটেক পার্কগুলোতে কারখানা তৈরি করলে কর অবকাশ সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষ যেখানেই প্রযুক্তিপণ্য নির্মাণ করবেন সেই জায়গাটিকে ‘হাইটেক পার্ক’ ঘোষণা দিয়ে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে সরকার ওয়ালটনের ল্যাপটপ তৈরির কারখানাকে ‘হাইটেক পার্ক’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে তাদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, ফেয়ার ইলেকট্রনিকস দেশে স্যামসাং মোবাইল ফোন তৈরি করছে। এজন্য নরসিংদীর শিবপুরে একটি কারখানা স্থাপন করেছে। সেই কারখানায় স্যামসাংয়ের অন্যান্য পণ্যের পাশাপাপাশি ফোরজি স্মার্টফোন তৈরি করা হবে। দেশের প্রয়োজন মিটিয়ে লক্ষ্য বিদেশে রফতানি করা। সংশ্লিষ্টরা জানালেন, আগামী ঈদুল ফিতরের আগেই বাজারে পাওয়া যাবে দেশে তৈরি স্যামসাং মোবাইল ফোন।
ফেয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান রুহুল আলম আল মাহবুব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘আমাদের মূল লক্ষ্য দেশের বাজারের চাহিদা পূরণ করা। স্মার্টফোন উদ্বৃত্ত থাকলে আমরা নেপালে রফতানি করবো। শ্রীলঙ্কা আমাদের পরবর্তী টার্গেট।’ তিনি বলেন, ‘আফ্রিকাও আমাদের নজরে আছে। বিশেষ করে নাইজেরিয়া। বিশাল জনসংখ্যার দেশ। আফ্রিকার ওই দেশটি ব্যবসা-বাণিজ্যে সম্মৃদ্ধ। ফলে আমরা নাইজেরিয়াকেও রেখেছি আমাদের ভবিষ্যতের ক্রেতা দেশ হিসেবে।’
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, অন্তত দুটি বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের ল্যাপটপের উৎপাদন যাতে এ দেশেই হয় সে জন্য বাংলাদেশ অফিসে যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছেন কারখানার মালিকেরা। কারখানা মালিকদের লক্ষ্য নিজেদের পণ্য তৈরির পাশাপাশি ল্যাপটপ তৈরি করা। সেটআপ, মেশিন রেডি। ফলে তৈরি করলে তাদের কারখানা সব সময় চালু থাকে এবং দেশের মানুষ কম দামে ল্যাপটপ পাবে।
জানা গেছে, চীনের একটি জনপ্রিয় মোবাইল ফোন ব্র্যান্ড এ দেশে তাদের অনুমোদিত পরিবেশকদের মাধ্যমে খোঁজখবর করছে কারখানা স্থাপন করে মোবাইল ফোন তৈরি করা যাবে কিনা। মোবাইল উৎপাদক ওই প্রতিষ্ঠানটির ধারণা, এ দেশে মোবাইল ফোন তৈরি করলে বর্তমান বাজারমূল্যের চেয়ে অন্তত ২০-২৫ শতাংশ কম দামে ক্রেতাদের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হবে।
পুনশ্চঃ
দক্ষিন কোরিয়া, মালয়েশিয়া, সিংগাপুর কিন্তু এভাবেই উন্নতি করেছে ।
উত্তর দাতা - মোহাম্মদ নুরুল আমিন 

No comments

'; (function() { var dsq = document.createElement('script'); dsq.type = 'text/javascript'; dsq.async = true; dsq.src = '//' + disqus_shortname + '.disqus.com/embed.js'; (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(dsq); })();