Breaking News

তিন জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৪ || RIGHTBD


আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিন জেলায় চারজন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ঝিনাইদহে দুই ও  ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে একজন ‘মাদক ব্যবসায়ী’ এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের এক সদস্য নিহত হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত এবং রোববার ভোরে এসব ঘটনা ঘটে। 
ঝিনাইদহ: 
শহরের পবহাটি জামতলায় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দু্ইজন নিহত হয়েছেন। শনিবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থল থেকে দুটি ওয়ান শুটার গান, ২ রাউন্ড গুলি, ৫৫ বোতল ফেনসিডিল, একশ ৫২ পিস ইয়াবা ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে র‌্যাব।
র‌্যাবের দাবি নিহতরা মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের বিরুদ্ধে মাদকের মামলা আছে। তারা হলেন- ঝিনাইদহ শহরের বাঘা যতীন সড়কের রহিম বক্সের ছেলে সাজ্জাদুল ইসলাম (৪২) ও উদয়পুর গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (৪০)। এ সময় র‌্যাবের দুজন সদস্য আহত হন।
 র‌্যাব-৬ এর ঝিনাইদহ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার গোলাম মোর্শেদ জানান, রাতে র‌্যাবের একটি টহল দল পবহাটি জামতলায় চেক পোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করছিল। এসময় কয়েকটি মোটরসাইকেল আসতে দেখে থামার নির্দেশ দেয়া হয়।
 কিন্তু মোটরসাইকেল আরোহীরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। র‌্যাবও পাল্টা গুলি করে। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে ২০-২৫ মিনিট ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হয়। এক পর্যায়ে আরোহীরা পিছু হটে।
ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
ময়মনসিংহ
জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়িতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’র এক ‘মাদক ব্যবসায়ী’ নিহত হয়েছে। শনিবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম ফারুক মিয়া (৩১)। সে একই এলাকার তেলুয়ারি গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহমেদ কবীর জানান, রাতে আঠারবাড়ি বাজারের পাশে কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী মাদক ভাগাভাগি করছে -এমন খবরের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় ‘মাদক ব্যবসায়ী’রা পুলিশকে লক্ষ্য করে প্রথমে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং পরে গুলি চালায়। পরে পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। এক পর্যায়ে ‘মাদক ব্যবসায়ী’রা পালিয়ে যায়।
এসময় ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ফারুক মিয়া নামের একজনকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
গাইবান্ধা: 
গাইবান্ধায় গ্রেফতারের একদিন পর পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ছামছুল হক (৩৮) নামে ডাকাতি মামলার এক আসামি নিহত হয়েছেন। পলাশবাড়ী উপজেলার সাকোয়া ব্রিজ এলাকায় রোববার ভোরে এ ঘটনা ঘটে।
ছামছুলের বাড়ি উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নের সাকোয়া গ্রামে। তিনি আন্তজেলা ডাকাত দলের সদস্য ও একাধিক ডাকাতি মামলার আসামি ছিলেন।
গাইবান্ধা সদর থানার ওসি খান মো. শাহারিয়ার বলেন, শনিবার দুপুরে গাইবান্ধা সদর ও সাদুল্লাপুর থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে ঢোলভাঙ্গা বাজার এলাকা থেকে ছামছুলকে গ্রেফতার করে।
তাকে হাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেয়া তথ্য মতে অস্ত্র উদ্ধার ও অন্য সঙ্গীদের আটক করতে তাকে নিয়ে সাকোয়া গ্রামে পুলিশ রবিবার ভোর রাতে অভিযানে যায়। এসময় তাকে ছিনিয়ে নিতে তার সঙ্গীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি করে। এক পর্যায়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ছামছুল গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক  মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ওসি আরও জানান, ছামছুল আন্তজেলা ডাকাত দলের সদস্য ছিলেন। তার বিরুদ্ধে গাইবান্ধা সদর, সাদুল্লাপুর ও পলাশবাড়ীসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক হত্যা ও ১২টি ডাকাতি মামলা রয়েছে।

No comments