Breaking News

দ্বিতীয়বারের মত ফ্রান্স বিশ্বচ্যাম্পিয়ন || RIGHTBD


দ্বিতীয়বারের মত বিশ্বকাপ ফুটবলের শ্রেষ্টত্ব অর্জন করলো ফ্রান্স। ফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয় দলটি।২০ বছর পর বিশ্বের শ্রেষ্ঠত্ব ফিরে পাওয়া ফ্রান্স এর আগে ব্রাজিলকে হারিয়ে ১৯৯৮ সালে প্রথমবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

২০০৬ সালে ফাইনালে উঠেও ইতালির কাছে টাইব্রেকারে হেরে লক্ষ্যে পোঁচ্ছাতে পারেনি।এক যুগ পর আবার শিরোপার লড়াইয়ে উঠে সেই আক্ষেপ মুছে ফেলে দ্বিতীয় শিরোপা এনে দিল দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা।

বিশ্বকাপের ফাইনালটাও হলো ফাইনালের মতো। কেউ কাউকে ছাড় দেওয়ার মতো নয়। উত্তেজনাকর ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া একদমই পাত্তা পেলো না ফ্রান্সের কাছে। অবশ্য হেরে গেলেও সাধুবাদ পাবে ক্রোয়েশিয়া। গোটা টুর্নামেন্ট জুড়েই নান্দনিক ফুটবল উপহার দিয়েছে ক্রোয়াটরা।

 শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচেও উপহার দিয়েছে লড়াকু ফুটবল। তবে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে, পগবা, গ্রিজম্যানদের গতির কাছে পেরে উঠেনি তারা। অবশ্য ম্যাচটি হারার জন্য ভাগ্যকেও কিছুটা দুষতে পারেন ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলাররা। কেননা তারা ফ্রান্সকে একটি গোল ভিএআরের মাধ্যমে এবং একটি আত্মঘাতী গোলের মাধ্যমে মোট দুটি গোল উপহার দেন।

জমকালো সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে ফাইনালে  ফ্রান্স ও ক্রেয়েশিয়ার লড়াইটি ছিল উপভোগ্য। আক্রমন পাল্টা আক্রমনের খেলায় আত্মঘাতী গোলে শিরোপা লড়াইয়ে এগিয়ে গিয়েছিল ফ্রান্স। অল্প সময়ের পার্থক্যেই দারুণ গোলে ক্রোয়েশিয়াকে সমতা ফেরান ইভান পেরিসিচ।

 প্রথমার্ধেই পেনাল্টি থেকে ফ্রান্সকে আবার এগিয়ে দেন অঁতোয়ান গ্রিজমান।দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ান পল পগবা ও কিলিয়ান এমবাপে। তবে গোলরক্ষক উগো লরিসের মারাত্মক ভুল বল জালে পাঠিয়ে ক্রোয়েশিয়াকে আশা দেখান মারিও মানজুকিচ।

ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলে রেখে আক্রমণে এগিয়ে ছিল ক্রোয়েশিয়া। তবে ভালো কোনো সুযোগ তৈরি হয়নি।খেলার ধারার বিপরীতে ফ্রান্স এগিয়ে যায় মারিও মানজুকিচের আত্মঘাতী গোলে। ১৮ মিনিটে ডি-বক্সের অনেক বাইরে থেকে অঁতোয়ান গ্রিজমানের ফ্রি-কিক হেডে বিপদমুক্ত করতে চেয়েছিলেন সেমি-ফাইনালের জয়সূচক গোলদাতা। বল তার মাথায় ছোঁয়া লেগে জালে ঢোকায় (১-০) কিছুই করার ছিল না গোলরক্ষক দানিয়েল সুবাসিচের।বিশ্বকাপের ইতিহাসে ফাইনালে এটাই প্রথম আত্মঘাতী গোল।

নক-আউট পর্বের তিনটি ম্যাচেই আগে গোল খেয়ে ম্যাচে ফিরেছিল ক্রোয়াটরা। এবারও ফিরতে দেরি হয়নি। ২৮ মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর থেকে দুর্দান্ত শটে গোল করেন ইভান পেরিসিচ। ফ্রি-কিক থেকে ডি-বক্সে আসা বল জটলা থেকে দোমাগোই ভিদা কাটব্যাক করেছিলেন। ডান পা দিয়ে বল আয়ত্তে নিয়ে বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোলরক্ষক উগো লরিসকে ফাঁকি দেন সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও সমতা ফেরানো পেরিসিচ ১-১।

 টুর্নামেন্টে এটি এই মিডফিল্ডারের তৃতীয় গোল।দশ মিনিট পর পেনাল্টি গোলে আবারও এগিয়ে যায় ফ্রান্স। কর্নার থেকে ডি-বক্সে আসা বলে লেগেছিল পেরিসিচের হাতের ছোঁয়া। রেফারি মাঠের বাইরে  গিয়ে ভিডিও রিপ্লে­ দেখে সিদ্ধান্ত দেন স্পট-কিকের। ঠান্ডা মাথায় টুর্নামেন্টে নিজের চতুর্থ গোলটি করেন অঁতোয়ান গ্রিজমান ২-১।

গোল শোধে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে ক্রোয়েশিয়া। ৪৮ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার রেবিচের শট রুখে দেন লরিস। ৫৩ মিনিটে গোল ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন এমবাপে। কিন্তু দ্রুত গতির এই ফুটবলার ডি বক্সের ভেতর সুবাসিচের গায়ে শট মারেন। ¯্রােতের বিপরীতে কাউন্টার এ্যাটাকে ডি বক্সের সামান্য বাইরে থেকে ডান পায়ে শট নেন পগবা কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে প্রতিহত হলে ফিরতি শটে বা-পায়ে দুর্দান্ত গোল করে ফ্রান্সকে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা।গোল খেয়ে যেন খেই হারিয়ে ফেলে ক্রোয়েশিয়া। এই সুযোগে আরো এক গোল করে বসে এমবাপে।

 ৬৫ মিনিটে ২৫ গজ দূর থেকে ডান পায়ের দুর্দান্ত শটে এই বিশ্বকাপে নিজের চতুর্থ গোলটি করেন এমবাপে ৪-১। কিংবদন্তী ফুটবলার পেলের পর দ্বিতীয় তরুণ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করলেন এই পিএসজি তারকা।

বিশ্বকাপ গোলরক্ষকদের জন্য অভিশাপ হয়েই রইল। ফর্মের তুঙ্গে থাকা গোলরক্ষকরা শিশুসুলভ ভুল করলেও বাকি ছিলেন ফ্রান্সের হুগো লরিস। ফাইনালের মঞ্চে তিনিও দৃষ্টিকটু ভুল করে বসেন। ৬৯ মিনিটে ফ্রান্সের ডিফেন্ডার লরিসকে ব্যাক পাস দেন। 

কিন্তু রক্ষণমুখে থাকা মানজুকিচকে কাটাতে গিয়ে তার পায়ে লেগে গোল খেয়ে বসে ফ্রান্স ২-৪।বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে এক ম্যাচে আত্মঘাতী গোল এবং দলের পক্ষে গোল করলেন মানজুকিচ। ম্যাচের শেষ দিকে গোল শোধের অনেক চেষ্টা করলেও আর তেমন কোন সুযোগই তৈরি করতে পারেনি ক্রোয়েশিয়া। ফলে ১৯৯৮ সালের পর দ্বিতীয়বারের মত বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হলো ফ্রান্স।

No comments