Breaking News

রাশিয়ার সঙ্গে অসাধারণ সম্পর্ক চায় যুক্তরাষ্ট্র || RIGHTBD


সারাবিশ্বে ক্ষমতা আর প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ে রাশিয়া আর যুক্তরাষ্ট্র সমানে সমান। দুই দেশের মধ্যে ক্ষমতা নিয়ে বৈরিতা থাকলেও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে শীতল সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। এ সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নিতে সোমবার ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কিতে ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে বসেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে টানা ৯০ মিনিট কথা বলেন তারা। এ সময় দুইজন দোভাষী ছাড়া অন্য কেউ তাদের সঙ্গে ছিলেন না। খবর ডেইলি মেইল
বৈঠকের শুরুতেই পুতিনের সঙ্গে করমদন করে রাশিয়ার সঙ্গে ‘অসাধারণ সম্পর্ক’ গড়ে তোলার আশা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, ‘রাশিয়াকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়াটা ভালো ব্যাপার, খারাপ নয় এবং বিশ্বও সেটিই চায়।’
এ সময় সফলভাবে বিশ্বকাপ ফুটবল আসরের আয়োজন সম্পন্ন করায় রাশিয়ার প্রশংসা করেন ট্রাম্প বলেন, ‘এটি সম্পর্ক উন্নয়নে ওয়াশিংটন ও মস্কোর জন্যে দুর্দান্ত সুযোগ ছিল কিন্তু গত দু’বছর ধরে আমরা তা পারছি না।’ এর আগে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক উত্তেজনার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তার পূর্বসূরিদের বোকামিকে দায়ী করেছিলেন ট্রাম্প।
ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় ভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পতাকা সজ্জিত একটি রুমে ছোট্ট একটি টেবিলের দুই পাশে বসেছিলেন বিশ্বের ক্ষমতাধর দুই প্রেসিডেন্ট। ভ্লাদিমির পুতিনের ফিনল্যান্ডে পৌঁছুতে দেরি হওয়ায় বৈঠকটি নির্ধারিত সময়ের ৪৫ মিনিট পরে শুরু হয়।
বৈঠকের শুরুতে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের মধ্যে আলোচনা করার মতো অনেক বিষয় আছে। আমরা সবকিছু নিয়ে কথা বলবো, বাণিজ্য থেকে শুরু করে সামরিক, মিসাইল, পরমানু ও চীন। বিশেষ করে চীনের ব্যাপারে আমরা একটু কথা বলবো।’ ট্রাম্প বলেন, ‘গত কয়েক বছরের মধ্যে আমরা কথা বলার ভালো একটা সুযোগ পেয়েছি।’
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা বিশ্বের অন্যতম দুই পারমানবিক ক্ষমতাধর। আমি মনে করি বিশ্ব আমাদের একসঙ্গে দেখতে চায়। কারণ বিশ্বের ৯০ ভাগ পারমানবিক রয়েছে আমাদের হাতে— যদিও এটি ভালো নয়। আমি মনে করি এটি ইতিবাচক নয় নেতিবাচক শক্তি। তাই আমরা অন্যান্যা বিষয় নিয়ে কথা বলবো।’
এদিকে বৈঠকে পুতিন বলেন, ‘বিশিষ্ট প্রেসিডেন্ট, ফিনল্যান্ডের হেলসিংকিতে আপনার সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে পেরে আমি আনন্দিত। যদিও আমাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ আছে আমরা ফোনে কথা বলেছি এবং কয়েকটি আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে আমাদের বেশ কয়েকবার দেখা হয়েছে। তবে অবশ্যই নিজেদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত কথা বলার এবং বিশ্বের সমস্যাপূর্ণ অনেকগুলো এলাকা নিয়ে আলোচনার এটাই সময়।’
এদিকে এ বৈঠককে মস্কো এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের পথে প্রথম ধাপ হিসেবে প্রত্যক্ষ করছে ক্রেমলিন। এরআগে ২০১৪ সালে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া উপদ্বীপ রাশিয়ার দখল করে নেয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়লাভে ক্রেমলিনের সহায়তার অভিযোগ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। এ পরিস্থিতিতে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র নতুন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে দুই দেশের নেতার মধ্যে দীর্ঘপ্রতিক্ষীত এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

No comments