Breaking News

রাজপথে কারা? শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নাকি ছাত্রদল-শিবির || RIGHTBD

নবম দিনের মত আজও রাজপথে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন। নিরাপদ সড়কের দাবিতে কোমলমতি স্কুল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে দীর্ঘ ৪৮ ঘণ্টার প্রোপাগান্ডা শেষে অষ্টম দিন স্কুলগামী শিক্ষার্থীর বদলে রাজপথে নেমেছি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থী মৃত্যু, স্কুলগামী ছাত্রীদের ধর্ষণ, ধানমন্ডি কার্যালয় থেকে সাত অ্যাম্বুলেন্সে করে শিক্ষার্থীর লাশ পরিবহন, তেজগাঁওয়ে ধর্ষিত স্কুল ছাত্রীর লাশ উদ্ধার থেকে শুরু করে আরো অনেক কিছু গতকাল সারাদিন ফেসবুক জুরে প্রচার হয়েছে। সেগুলো দেখে বারবার সংঘর্ষে জরিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। কিন্তু যারা বারবার সংঘর্ষে নেতৃত্ব দিয়ে মার খাবার সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সামনে ঠেলে দিয়েছেন, তারা কারা?


রোববার সারাদিনে বেশ কয়েকটি স্থানে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়েছে। এই হামলাগুলোর মধ্যে নাগরিক টেলিভিশনের রিপোর্টার আবদুল্লা সাফীর ওপরও হামলায় হয়। হামলা পরবর্তীতে ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, সিটি কলেজের সামনে চলতি গাড়ির উপর কিল,ঘুষি, ইট পাথর, বাঁশের লাঠি, হকিষ্টক….ধুমধাম ঠরাস ঠরাস কাচের ভাংচুর, সে এক পৈশাচিক আনন্দ শিক্ষার্থীদের! মাথা মুখে হাত রেখে কোন রকম নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা। কিছু বলারও সুযোগ নেই। ভাঙ্গা শেষে তাঁরা আমাদেরকে নামিয়ে গাড়িতে আগুন ধরাতে চাইলে কয়েকজন বাঁধা দেয়। অভিযোগ, গতকালের গুজব কেন মিডিয়া প্রচার করেনি?

অর্থাৎ যে কোন গুজব প্রচার করতে বাধ্য মিডিয়া। সর্বোপরি তারা মাথায় হাত দিয়ে সরি বলে আবেদন করে- ‘নিউজ করার সময় যেন বলি, শিক্ষার্থীরা নয় ভাংচুর করেছে ছাত্রলীগ।’ এরা আসলে কোন কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী? আর কেনই বা গণমাধ্যমকে ছাত্রলীগ হামলা করেছে বলতে অনুরোধ করা হয়েছে?
বিএনপি-জামায়ত ও শিবির সংশ্লিষ্টতা:
বিগত ৮ দিনের আন্দোলনে বেশ কিছু ছবি মানুষের দৃষ্টি কেড়েছে। তার মধ্যে একটি এক মা তার সন্তানের হাতে একটি স্লোগান লেখা কাগজ ধরিয়ে দিয়েছেন। সেখানে লেখা ছিলো- ‘পুলিশ আসলেই চ্যাটের বাল’। বিষয়টি আলোচনায় আসে কারণ এতটুকু একটি বাচ্চার কাছ থেকে এ ধরণের বক্তব্য কেউ আশা করে না। কিন্তু এই নারী তা ধরিয়ে দিয়েছে শিশুটির হাতে। জানা যায়, তিনি রাজশাহী-৪ আসন থেকে বিএনপির এমপি পদপ্রার্থী। আসন্ন নির্বাচনে এমপি পদে লড়াই করার জন্য ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে দাড়াতে চান তিনি। সে কারণেই কি তার এমন রূপ।


আন্দোলনে ধানমন্ডি ও ঝিগাতলা থেকে পোস্ট দেয়া অপর একটি ছবি থেকে জানা যায়, তিনি সাধারণ শিক্ষার্থী নন, বরং এফ রহমান হল ছাত্র দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সরদার আমিরুল ইসলাম। তার মতই ছাত্রদলের অধিকাংশ নেতা বর্তমানে সক্রিয় এই আন্দোলনে। উত্তরায় ছাত্রলীগকে মারধর ও বাইক ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা মূলত দাঁড়িয়ে ছিলেন। আসল কাজটি করেছে ছাত্রদল।
ধানমন্ডিতে হামলা করা অপর এক সাধারণ শিক্ষার্থীর ছবি প্রকাশিত হলে জানা যায়, তিনি ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক। রামদা হাতে নিজ সহযোগিদের সাথে হেঁটে যাচ্ছেন তিনি। অপর একটি ছবিতে কিছু শিবির কর্মীকে দেখা যায় গোল হয়ে বসে আগুন জ্বালাচ্ছে টিয়ারশেলের গ্যাস থেকে বাঁচতে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীর বদলে নিজ কর্মীদের একত্র করার আহ্বান ছিলো আমির খসরুর ফাঁস হওয়া অডিও ক্লিপে। সেখানে কোন হামলার কথা উল্লেখ না থাকলেও বিভিন্ন স্থান থেকে বন্ধু বান্ধব নিয়ে এসে আন্দোলন চালিয়ে যাবার নির্দেশ প্রদান করেন তিনি। রোববার দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। সেই সঙ্গে সারাদেশ থেকে নিজ কর্মীদের একত্র হওয়ার জন্য আমির খসরুর দেয়া বক্তব্যকে সমর্থন প্রদান করেন বিএনপির মহাসচিব মির্যা ফখরুল।
এই আন্দোলনের অষ্টম দিনে আরো একবার মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনায় আসেন মাহমুদুর রহমান মান্না। ‘ক্যাম্পাসে লাশ ফেলা’ তত্ত্ব দিয়ে দারুণ সমালোচিত এই রাজনীতিবিদ এক ফোনালাপে বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষার্থীদের চাঙ্গা করে আন্দোলন বাঁচিয়ে রাখার আহ্বান প্রদান করা হয়। অপর পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিগত কয়েকদিন বিমানবন্দর এলাকা অচল করে রাখতে পেরেছে তারা। কিন্তু সামনে কি হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা আছে। এর প্রতি উত্তরে মান্না তাদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান দেয় এবং যোগাযোগ রক্ষা করে চলতে বলে। সরকারের বিষয়ে হুশিয়ারও করেন তিনি।



চলতি নিরাপদ সড়ক আন্দোলনরে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুটি চরিত্রের একজন শহীদ আপন। তিনি তার বন্ধু কানাডায় বসবাস করা মুস্তফা রেজওয়ান রাহাদের মাধ্যমে আন্দোলনে যোগ দেন। মে মাসে কানাডায় যাওয়া রাহাদ তার ফেসবুক ভিডিওর মাধ্যমে অনেককে আহ্বান করেন আন্দোলনে সংশ্লিষ্ট হতে। পরবর্তীতে রোববার প্রকাশ করা অপর এক ভিডিওতে রাহাদ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে না নামার আহ্বান জানান। সেখানে তিনি বলেন, আন্দোলনটি রাজনৈতিকভাবে এখন ব্যবহার করছে জামায়াত-শিবির ও ছাত্রদল। তিনি এ সময় আরো জানান, বৃহস্পতিবারের পর থেকে আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণ আর তার হাতে থাকে নি।



স্কুল ড্রেস পরা এক শিক্ষার্থী দৌড়ে আসার সময় তার স্কুল ব্যাগ থেকে চাপাতি বের করেন এমনই এক ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে গণমাধ্যমে। প্রশ্ন উঠেছে, শান্তিপূর্ণ এই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে এখন কারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আন্দোলনে ভাংচুর ও মারধরের ঘটনায় সত্যিকার অর্থে কতজন সাধারণ শিক্ষার্থী জড়িত রয়েছে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলা অহিংস আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয় সকল শিক্ষার্থীরা। সেখানে সমর্থন ছিলো সকল শ্রেণীর মানুষের। কিন্তু শুক্রবার ও শনিবার আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ হ্রাস পেয়ে বেড়েছে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ।



সব মিলিয়ে বলা যায়, নিরাপদ সড়ক নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে বা অর্থ দিয়ে এই আন্দোলনকে সরকার বিরোধী আন্দোলনের পর্যায়ে নিয়ে যেতে চেষ্টা করছে একটি পক্ষ। সরকারকে বারবার ব্যর্থ বলে এই আন্দোলন ঘিরে সরকার পতনের ডাক দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল।
গণ মানুষের দাবি ও আন্দোলন নিয়ে জামায়াত-বিএনপির এই রাজনীতি দেশের জন্য কতটা সুফল বা ক্ষতি বয়ে নিয়ে আসতে পারে তা নতুন করে ভাববার সময় চলে এসেছে।

No comments