Breaking News

আন্দোলন ঘিরে এক নতুন মাত্রায় ‌‘গুজব’! RIGHTBD

প্রতিটি গণ আন্দোলন নিয়ে ‘গুজব’ ছড়ানো যেন নিয়মিত বিষয় হয়ে গেছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনে যেসব গুজবের নমুনা মিলেছে তার মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে। বিগত বেশ কয়েকদিন যাবৎ ভুয়া ছবি ও তথ্য প্রকাশ করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালিয়েছে একটি সুনির্দিষ্ট গোষ্ঠী। তাদের এই গুজব এবার সকল মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সম্প্রতি ব্যক্তিগত মেসেঞ্জার ও গ্রুপ মেসেঞ্জারে একটি ‘গুজব’ ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে যা মেসেঞ্জারে ভাইরাল হয়ে গেছে। সেখানে জানানো হচ্ছে, ‘রোববার স্কুল শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং যৌন নির্যাতন চালানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’
এ প্রসঙ্গে ফেসবুকে কোন পোস্ট প্রদান করা না হলেও ‘একজন সাংবাদিক এবং এক মন্ত্রীর খুব কাছের একজন’-এর বরাত দিয়ে মেসেঞ্জারে জানানো হচ্ছে, ‘আগামী রবিবার মন্ত্রী এমপি রা ১০০০-১৫০০ বস্তির ছেলে কে রাস্তায় নামাবে। যাদের কাজ হবে মেয়েদের যৌন নির্যাতন করা, গাড়ি ভাঙা, গাড়িতে আগুন দেওয়া। আর এই ঘটনার প্রতিবাদে পুলিশ সাধারণ ছাত্রদের উপর আক্রমণ চালাবে। ফলাফল ছাত্রদের উপর সাধারণ মানুষ খেপবে।’
সেখানে অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়, ‘অনুগ্রহপূর্বক নিউজ টি ম্যাসেজের মাধ্যমে শেয়ার করবেন। কোনপ্রকার পোষ্ট দিবেন না।’
অপর এক মেসেঞ্জার পোস্টে রামদা ছুড়ির ছবি দিয়ে বলা হয়, ‘নিজের রিস্কে আসিস, কালকে ছাত্রলীগ কোপাইব।’
অন্যদিকে মিরপুরে এক সন্ধ্যার ছবি দিয়ে লেখা হয়েছে, ‘রাস্তার ছেলেদের টাকা ও স্কুল কলেজের জামা দেয়া হচ্ছে। কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না, তাই না?’
‘এ ছাড়াও বস্তির ছেলেদের কাছ থেকে শুনলাম …., আমার বাসার পাশের বস্তুতে শুনলাম… বাসার পাশের বস্তিতে দেখলাম …..’ এমন আরো ১০টির বেশি গুজব মেসেঞ্জারে ছড়িয়ে পড়ছে।
এ প্রসঙ্গে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা জানান, এ রকম কোো হামলার পরিকল্পনা সরকারি সংগঠনগুলোর নেই বলেই আমরা জেনেছি। তবে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হামলা ও ভাঙচুর করতে চাচ্ছে। কিছুদিন আগে ফার্মগেটেও এভাবেই হঠাৎ করে হামলা চালানো হয়। যার সঙ্গে শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট নয় বলে আমরা জেনেছি। পুলিশ এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

এদিকে পুলিশের মিডিয়া বিভাগকে বিষয়টি সম্পর্কে জানানো হলে তারা বলেন, মেসেজগুলো দেখলেই বোঝা যায় এটি ‘গুজব’। এখানে তথ্য সূত্র ‘একজন সাংবাদিক ও মন্ত্রীর কাছের লোক’ অথবা ‘আমার এক বোন’ বা ‘আমার কাজিন’ ব্যবহার করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের এ ধরণের ‘গুজব’ ছড়িয়ে দেয়ার বিষয়ে আরো সতর্ক হওয়া উচিত।
এই সকল ‘গুজব’ প্রসঙ্গে আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়া শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজের সদ্য সাবেক হওয়া শিক্ষার্থী তৌহিদুর রহমান দ্বীপ বলেন, আমাদের মেসেঞ্জারে অনেক ভয়েস রেকর্ড আসছে। গ্রুপগুলোতেও অনেক ভুল তথ্য ভাইরাল করা হচ্ছে। আমার কাছে একটি মেসেজ বলা হয়েছে, নৌমন্ত্রী শাহজান খান তার লোকজন ও বস্তির ছেলেদের কলেজের পোশাক ও আইডি কার্ড বিতরণ করছে। এগুলো শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করতে এবং ভুল পথে এগিয়ে নিতে প্রচার করা হচ্ছে। আমরা জানি, আমাদের মধ্যে এসে এমন কিছু করার চেষ্টা করলে সবার আগে সেই ব্যক্তিরাই আমাদের কাছে ধরাশায়ী হবে। কেননা আমরা শিক্ষার্থীরা সবাই সবাইকে চিনি। কাছাকাছি স্কুল বা কলেজের শিক্ষার্থীরা একত্র হয়ে আন্দোলন করছে, তারা পরস্পরকে কম বেশি চেনে। এখানে অনুপ্রবেশের সুযোগ নেই। আমাদের একটাই দাবি ‘নিরাপদ সড়ক চাই’।
এই শিক্ষার্থী আরো বলেন, আমরা ছাত্ররা নেতাহীন আন্দোলন করছি। আমাদের মাঝে মানবতাও আছে। আমরা এই রকম কোনো ঘটনা ঘটতে দিবো না। নিসঃন্দেহে আমরা বাইরের ছেলেদের অপ্রীতিকর কোনো কিছুই করতে দিবো না। আর বস্তির ছেলেদের এসে হামলা করার বিষয়টি কতটুকু সত্য, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। এইসব সম্পূর্ণ কিছুই করা হচ্ছে ছাত্রদের পিছু হটিয়ে দেয়ার জন্য। আমাদের আন্দোলন থামবে না ইনশাল্লাহ! আমাদের মধ্যে এইসব ‘গুজব’ ঢুকিয়ে দিয়ে আন্দোলনকে রুখতে পারবে না।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম এই ‘গুজব’ প্রসঙ্গে বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সকল দাবি সরকার মেনে নিয়েছে। অনেক দাবি পূরণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাঁকি দাবি পূরণের ক্ষেত্রেও কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বর্তমান সরকার এই আন্দোলনের শুরু থেকেই আন্তরিক ছিলো এবং এখনো রয়েছে। কিন্তু কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে একটি নির্দিষ্ট শ্রেণি ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছেন। তারা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ও উসকানি দিয়ে আন্দোলনকে ভিন্ন পথে প্রবাহিত করতে চাচ্ছেন। আশা করি নির্দিষ্ট সুবিধাবাদী শ্রেণিটিকেও প্রতিহত করবে এই শিক্ষার্থীরা।

No comments