Breaking News

রোহিঙ্গাদের প্রতি সু চি’র ‘জঘন্য’ আচরণে মর্মাহত আনোয়ার ইব্রাহিম || RIGHTBD


রোহিঙ্গাদের প্রতি মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি’র আচরণ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন মালয়েশিয়ার পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। হংকং-এ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আনোয়ার বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রতি সু চি’র আচরণে তিনি মর্মাহত। 



এ ধরনের আচরণকে জঘন্য আখ্যা দিয়েছেন আনোয়ার।
গত বছরের আগস্টে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার পর রাখাইনে পূর্ব পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাত লাখ রোহিঙ্গা।



 জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ওই অভিযানে জাতিগত নিধনযজ্ঞের আলামত পেয়েছে। একে গণহত্যার শামিল বলেছে জাতিসংঘ। মিয়ানমারে সেনা অভিযানের বিষয়ে নীরব থাকায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনার মুখে পড়েন দেশটির ডি ফ্যাক্টো সরকারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নেত্রী অং সান সু চি। ওই নীরবতার অভিযোগে এরই মধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংগঠন তাকে দেওয়া সম্মাননা বাতিল করেছে।

ভাগাভাগি করে প্রধানমন্ত্রিত্ব করাজনিত সমঝোতার অংশ হিসেবে এক দুই বছরের মধ্যেই আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন মালয়েশিয়ার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। গত বুধবার হংকংয়ে টেলিভিশনকে সাক্ষাৎকার দেন আনোয়ার। সেসময় রোহিঙ্গা প্রশ্নে সু চি’র নীরব ভূমিকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন মালয়েশিয়ার পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।
আনোয়ার বলেন, ‘এসব দিনগুলোতে সু চি’র আচরণে আমি মর্মাহত হয়েছি।



 বৌদ্ধ, মুসলিম, খ্রিস্টান নির্বিশেষে সবাই তাকে সমর্থন দিয়েছে। তাহলে কেন তিনি সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধমূলক কর্মকা-কে দেখেও না দেখার ভান করছেন?’
রোহিঙ্গা প্রশ্নে সু চি’র আচরণকে ‘জঘন্য’ আখ্যা দেয়াটাকে সবচেয়ে যথার্থ বলে মনে করেন আনোয়ার। ‘হত্যা বন্ধ কর’ এতোটুকু বলার জন্যও সু চি প্রস্তুত ছিলেন না উল্লেখ করে আক্ষেপ জানান মালয়েশিয়ার এ হবু প্রধানমন্ত্রী।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, শান্তিতে নোবেলজয়ী সু চিকে এভাবে আক্রমণ করে কথা বলাটা তার প্রতি আনোয়ার ইব্রাহিমের ব্যক্তিগত অভিমানেরই বহিঃপ্রকাশ। কারণ, কিছু ক্ষেত্রে তাদের দুজনের মিল ছিল। এশিয়ার খ্যাতনামা রাজবন্দিদের মধ্যে তারা দুইজনও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।



 বার বারই তারা দেশের সরকার পক্ষের দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন। এ বছর মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আগ পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন আনোয়ার। নাজিব রাজাকের দল বারিসান ন্যাশনালের ছয় দশকের শাসনের অবসান ঘটিয়ে আনোয়ার ও মাহাথিরের জোট ক্ষমতায় আসার পর গত মে মাসে মুক্তি পান তিনি।



২০১২ সালে একটি নির্বাচনে জয় পাওয়ার জন্য সু চিকে অভিবাদন জানিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন আনোয়ারের স্ত্রী ও মালয়েশিয়ার বর্তমান উপ প্রধানমন্ত্রী ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল। রোহিঙ্গাদের সহায়তায় কাজ করার জন্য সু চি’র প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।



সু চি সম্পর্কে আনোয়ার ইব্রাহিমের মন্তব্য নিয়ে তার মুখপাত্র জ হটে’র সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা যায়নি।
রাখাইনে রোহিঙ্গা গ্রাম পরিদর্শনের অনুমতি পেলো জাতিসংঘের চারটি দল রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত বেশ কিছু এলাকা পরিদর্শনের জন্য জাতিসংঘের দলগুলোকে অনুমতি দিয়েছে মিয়ানমার সরকার। 



জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)’র চারটি দল উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে দুই সপ্তাহ অবস্থান করবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে এ কথা জানা গেছে।
গত বছরের আগস্টে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার পর রাখাইনে পূর্ব পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।



 নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাত লাখ রোহিঙ্গা। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ওই অভিযানে জাতিগত নিধনযজ্ঞের আলামত পেয়েছে। মিয়ানমার সরকার বারবারই দাবি করে আসছে যে,নিরাপত্তার স্বার্থে এই অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী। কোন নিধনযজ্ঞ চালানো হয়নি। সম্প্রতি জাতিসংঘ অভিযোগ করেছে,রাখাইনে সংকট শুরু হওয়ার এক বছর হয়ে গেলেও এখনও সেখানে কার্যকর প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। সংকট শুরুর পর থেকেই রাখাইনে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের স্বাধীন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। যে কয়েকবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় এবং সীমিত পরিসরে।



গতকাল বৃহস্পতিবার সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমার সরকার জাতিসংঘের দলগুলোকে সম্প্রতি ২৩টি স্বতন্ত্র গ্রাম ও তিনটি গ্রাম্য ওয়ার্ড পরিদর্শনের অনুমতি দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে গত জুনে জাতিসংঘের সঙ্গে মিয়ানমারের সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের পর এটাই এ ধরনের প্রথম পদক্ষেপ।জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার মুখপাত্র আউইফে ম্যাকডনেল বলেন, “গত বছরের আগস্ট থেকে সংকটের পুরোটা সময় রাখাইনের মংডু গ্রামে ইউএনএইচসিআর-এর একটি কার্যালয় ও দল মোতায়েন থাকলেও মাঠ পর্যায়ের পরিদর্শন তাদের জন্য ‘কঠোরভাবে নিষিদ্ধ’ ছিল।”



গত মাসে জাতিসংঘ মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে এক তদন্ত প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাখাইনে রোহিঙ্গা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকায় মিয়ানমার সেনা কর্মকর্তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে। সেনাবাহিনীর সঙ্গে বেসামরিক কর্তৃপক্ষও এই নিধনযজ্ঞে ইন্ধন জুগিয়েছে।



 রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চিও তার সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই সহিংসতা থামাতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে মন্তব্য করা হয় ওই প্রতিবেদনে। জাতিসংঘ বলছে, রাখাইনে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ নিয়ে মিয়ানমার সরকারের প্রত্যাখ্যান ও অস্বীকারের মাত্রায় তারা অবাক হয়েছে।



জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়,রাখাইন ছাড়াও মিয়ানমারের কাচিন ও শান রাজ্যেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। রাখাইনে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মিও (আরসা) স্থানীয়দের ওপর নিপীড়ন চালিয়েছে।

No comments