Breaking News

ছাত্রলীগ নেতাদের হত্যার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে শিবির কর্মীরা || RIGHTBD




আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় ধরণের নাশকতার পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি-জামায়াতের সহযোগী সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির। বিশেষ করে ছাত্রলীগের জেলা পর্যায়ের নেতাদের তালিকা তৈরি করে গেরিলা আক্রমণের মাধ্যমে জনপ্রিয় ছাত্রনেতাদের হত্যার পরিকল্পনা করেছে এই উগ্রপন্থী সংগঠনটি।
৫ অক্টোবর দিবাগত রাতে গ্রেফতারকৃত সিলেট মহানগর ছাত্র শিবিরের সভাপতি নজরুল ইসলাম এক জবানবন্দিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মারফত জানা গেছে।


সূত্র বলছে, বিএনপির তত্ত্বাবধানে শিবিরের কেন্দ্রীয় দিকনির্দেশনা অনুযায়ী, নির্বাচনের সময় ছাত্রলীগের ওপর লাগাতার হামলা চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। ছাত্রলীগের জেলা পর্যায়ের জনপ্রিয় ছাত্রনেতাদের উপর অতর্কিত হামলা করে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গোপনে প্রশিক্ষণ ক্যাম্প তৈরির মতো তৎপরতাও অব্যাহত রেখেছে বলে জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। নির্বাচনে যাতে কোনভাবেই ছাত্রলীগের নেতারা বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে না পারে, সেজন্য তৈরি করা হয়েছে শিবিরের বিশেষ গ্রুপ।





হামলার মাধ্যমে ছাত্রলীগের মনোবল ভেঙে দেয়ায় এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে দিতে পারলেই ভোটে কারচুপি করে অবৈধ পথে ক্ষমতায় আসতে ঐক্যফ্রন্টকে সহযোগিতা করা যাবে বলে-ই মনে করছে পরিকল্পনাকারীরা।



এদিকে বেশ কিছুদিন ধরেই স্থানীয় পর্যায়ে শিবিরের চিহ্নিত নেতারা গা ঢাকা দেয়ার বিষয় চোখে পড়ার মতো। বিগত সময়ে তাদের কোন রাজনৈতিক তৎপরতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে, এসব নেতারা শিবিরের বিভিন্ন গোপন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিয়ে প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসী হিসেবে গড়ে উঠছে। নির্বাচনে এসব প্রশিক্ষিত শিবির নেতারা বড় ধরণের নাশকতার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করবে বলেও তথ্য রয়েছে।


এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মূলত নির্বাচনের আগে দেশকে অস্থিতিশীল করে সরকারকে চাপের মুখে রাখার জন্য শিবির নেতারা ছাত্রলীগকে টার্গেট করেছে। ছাত্রলীগ নেতাদের কাবু করতে পারলেই নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের ক্ষমতায় যাবার পথ সহজ হয়ে যাবে। আর এতে করে শিবির নেতারা ড. কামালদের সুনজরে আসতে সক্ষম হবেন।


তথ্যসূত্র বলছে, সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা কিংবা না করা উভয় ব্যাপারেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে জামায়াত-শিবির। আর প্রস্তুতি’র পুরোটাই নাশকতা নির্ভর। শিবিরের সাংগঠনিক গুরুত্বপূর্ণ নথি-পত্র থেকে তা স্পষ্ট হওয়া যায়। আর এসব নথি-পত্রে উঠে এসেছে শিবিরের নির্বাচনকেন্দ্রিক নানা পরিকল্পনা। আগে মসজিদ, মেস কিংবা গোপন আস্তানায় তারা সংগঠিত হলেও এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ফাঁকি দিতে ব্যবহার করছে টেলিগ্রামসহ নানা ধরণের অ্যাপস। ওই অ্যাপসগুলোতে জেলাভিত্তিক ছাত্রলীগ নেতাদের তালিকা সংযোজিত রয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছে বিশ্বস্ত সূত্র।





আইএইচএস জেইন টেরোরিজম অ্যান্ড ইনসার্জেন্সি সেন্টারের জরিপ অনুযায়ী, অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র সংগঠনের মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছে থাইল্যান্ডের বারিসান রেভোলুসি নাসিওনাল এবং দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে তালেবান। এরপরেই রয়েছে বাংলাদেশের ইসলামী ছাত্রশিবির। আর এই সশস্ত্র উগ্রপন্থী সংগঠনটি নির্বাচনকে টার্গেট করে এখন ছাত্রলীগের জেলা পর্যায়ের নেতাদের হত্যার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

No comments