Breaking News

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বেড়েছে হত্যাকান্ডসহ নানা অপরাধ || RIGHTBD


কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া গড়ে ওঠা অস্থায়ী শরণার্থী শিবিরগুলোতে মিয়ানমারের গুপ্তচরের কারণে হত্যাকান্ড সহ বেড়েছে নানা অপরাধ। অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে বেশীরভাগ ক্যাম্পগুলো। এতে উদ্বেগ ও আতঙ্কের মাঝে রয়েছেন স্থানীয়রা। বেশকিছুদিন ধরে বিভিন্ন ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের উপর হামলা করছে দুস্কৃতিকারীরা।



 পাশাপাশি মারামারি ও হানাহানি করে ক্যাম্পগুলোতে গড়ে তুলেছে অস্থিতিশীল পরিবেশ। ক্যাম্পের পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র। তাদের কর্মকান্ডে ভীত হয়ে পড়েছেন সাধারণ রোহিঙ্গার পাশাপাশি স্থানীয়রাও। স্থানীয়দের পাশপাশি খোদ অভিযোগ করে সাধারণ রোহিঙ্গারাও বলেন, ক্যাম্পে কিছু খারাপ রোহিঙ্গা নানা অপরাধ কর্মকান্ড করে বেড়াচ্ছে। কিছু এনজিও দুস্কৃতকারীদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।


খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, মিয়ানমারে সৃষ্ট সহিংসতায় ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার প্রায় ৩০ টি রোহিঙ্গা অস্থায়ী শরণার্থী শিবিরে। তখন থেকে কতিপয় রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীল করতে নানা তৎপরতা চালাচ্ছে একটি অপরাধী চক্র।


এরই প্রেক্ষিতে অস্বাভাবিক কিছু হত্যাকান্ড, অপহরণ ও অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ধুম্রজাল তৈরি হয়েছে জনমনে। বিশেষ করে আরিফ উল্লাহ হত্যাকান্ড এবং রোহিঙ্গা ৩ নেতাসহ ২৫টির বেশী হত্যাকান্ডের পর ঘনিভূত হয়েছে সন্দেহ। থানাগুলোতে বেড়েই চলেছে রোহিঙ্গা সংক্রান্ত অভিযোগ।


এদিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং আলহাজ্ব আলী আছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে দপ্তরীকে নির্মমভাবে হত্যাকান্ডের ঘটনায় গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছে স্থানীয়দের। এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টেকনাফ থানার এসআই সুব্রত রায় জানিয়েছেন, ওই মামলায় সিডিআরের তথ্যের মাধ্যমে যাচাইবাচাই করে পাংখালী এলাকার এক তরুনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।


 তিনি আরো জানান, এ হত্যাকান্ডের সাথে রোহিঙ্গা দূস্কৃতিকারীরা জড়িত থাকতে পারে। সর্বশেষ ৮ ফেব্রুয়ারী চাকমারকুলের গহীণ অরণ্য থেকে গলাকাটা মোহাম্মদ রফিক (২০) নামের এক রোহিঙ্গা লাশ উদ্ধার করেছে উখিয়া থানা পুলিশ। তিনি বালুখালী ক্যাম্পের জি ১১ নম্বর ব্লকের মোঃ সুলতানের ছেলে। মুক্তিপণের কারণে এ রোহিঙ্গা গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে গোয়েন্দা সংস্থা ধারণা।

স্থানীয়রা ও সাধারণ রোহিঙ্গা বলছেন, ক্যাম্পে ওত পতে আছে মিয়ানমারের অনেক গুপ্তচর। গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন গুপ্তচর মাষ্টার আয়ূব (পুটিবনিয়া ক্যাম্প), মোঃ জাকারিয়া, মৌঃ হারেস (চাকমারকুল ক্যাম্প) সহ প্রতিটি ক্যাম্পে গুপ্তচরগিরিতে লিপ্ত রয়েছেন।




 আকতার আলম নামের এক গুপ্তচর ও ২৭ হিন্দুকে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে মিয়ানমার বলে জানা গেছে। তবে এখনও ক্যাম্পে থেকে কলকাঠি নাড়ছে অনেক গুপ্তচর। তৃতীয় কোন শক্তি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে পরিস্থিতি হতে পারে ভয়াবহ। গোয়েন্দা তৎপরতার পাশাপাশি প্রশাসনিক কর্মকান্ডে বাড়ানোর পরামর্শ সচেতন মহলের
টেকনাফ পুটিবনিয়া ক্যাম্পের এক রোহিঙ্গা নেতা গুপ্তচর বা খারাপ রোহিঙ্গা বিভিন্ন জায়গা রয়েছে জানিয়ে বলেন, এসব গুপ্তচর মিয়ানমারের এক অপরাধী চক্রের সাথেও জড়িত রয়েছে। পাশাপাশি অস্থায়ী ক্যাম্পেও তারা (দূস্কৃতিকারীরা) অস্থিতিশীল করার পায়তারা করছে।

মিয়ানমার থেকে পাঠানো প্রত্যাবাসন তালিকায় রয়েছে  গুপ্তচর পরিবারের নাম। এছাড়া অপহরণ, অগ্নিকান্ড এবং হত্যাকান্ডের ঘটনাগুলো তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে চাঞ্চল্যকর তথ্য এমনটি দাবী করেছেন স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ জামাল, ছাত্রদল নেতা গিয়াস উদ্দিন।

হোয়াইক্যং মডেল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী, রোহিঙ্গারা আসার পর এ অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরমভাবে অবনতি হয়েছে। পাশাপাশি কতিপয় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের যোগাযোগ অবশ্যই থাকবে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, হোয়াইক্যং উচ্চ বিদ্যালয়ের দপ্তরী মোহাম্মদ রশিদের হত্যাকান্ডের সাথে রোহিঙ্গা জড়িত রয়েছে। ক্যাম্পগুলোতে প্রশাসনের নজরদারী বাড়ানোর জোর দাবী জানান তিনি।



 এ ব্যাপারে টেকনাফের ক্যাম্প কমান্ডার লেফটেন্যান্ট মির্জা শাহেদ মাহতাব (এক্স) পিপিএম, বিএন জানিয়েছেন, ক্যাম্পে পরিবেশ স্থিতিশীল রাখার জন্য র‌্যাব সাদা পোষাকে গোয়েন্দা নজরদারী এবং পেট্রোলিং অব্যাহত রেখেছে। যে কোন মূল্যে ক্যাম্পে অস্থিতিশীল বজায় রাখতে র‌্যাব প্রস্তুত রয়েছে।

এ ব্যাপারে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ রবিউল হাসান সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পগুলোতে কিছু ঘটনা ঘটেছে জানিয়ে তিনি বলেন, দূস্কৃতকারীদের তালিকা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি নজরদারী বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

No comments